হাথরাসে গণধর্ষণ হয়নি, জানাল ফরেন্সিক রিপোর্ট, যদিও সন্দেহ প্রকাশ বিশেষজ্ঞদের

২৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে দলিত তরুণীকে নাকি গণধর্ষণ বা ধর্ষণ কিছুই করা হয়নি, এমনটাই দাবি করা হল ফরেন্সিক রিপোর্টে। এই একই দাবি কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তরফে করা হয়েছিল। কিন্তু ফরেন্সিক রিপোর্টের পরেও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার যত দিন পরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই বিষয় নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগ্রার ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবোরেটরির তরফে যে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, তরুণীর সঙ্গে যৌনসঙ্গমের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তরুণীর দেহে কোথাও বীর্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ তরুণীকে ধর্ষণ বা গণধর্ষণ করার কোনও প্রমাণ নেই।

অবশ্য এই ফরেন্সিক রিপোর্ট নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ, গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্যাতন করা হয় তরুণীকে। তার ১১ দিন পরে তাঁর শরীরের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এতদিন পরে নমুনা পরীক্ষা হলে সেখানে বীর্য থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। ফরেন্সিকের তরফে বলা হয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর তরুণীর দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল এবং তা আগ্রার ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ঘটনার ১১ দিন পরে। নমুনা সংগ্রহে যেভাবে দেরি হয়েছে তাতে প্রশাসনের বিরুদ্ধেই ফের গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের তরফে জানানো হয়েছে, ধর্ষণের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করলে তবেই বীর্য ও অন্যান্য নমুনা পাওয়া যায়। কিন্তু নমুনা সংগ্রহে দেরি হলে সেগুলি আর পাওয়া যায় না। তাই ধর্ষণের অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে যত দেরি করে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে তাতে প্রশাসনের দিকেই আঙুল উঠছে। ইচ্ছে করেই কি এই কাজ করা হয়েছে। প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরাও।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তরফে বলা হয়, ফরেন্সিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের এক সিনিয়র অফিসার প্রশান্ত কুমার বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলেছে গলায় আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে তরুণীর। ফরেন্সিক রিপোর্টে বীর্য পাওয়া যায়নি। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে কেউ ঘটনাকে উঁচু ও নিচু শ্রেণির মধ্যে গণ্ডগোলের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কারা এই কাজ করছে তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশের এই মন্তব্য সেই সময় শুরু হয় সমালোচনা। এবার একই ধরনের কথা বলা হল ফরেন্সিক রিপোর্টেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More