বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

দেশে এই প্রথম ভোট যেখানে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বইছে বিপুল হাওয়া: মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই প্রথম ভারতে একটি সাধারণ নির্বাচন হতে চলেছে যেখানে হাওয়া বইছে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে – এমনটাই জানালেন নরেন্দ্র মোদী। গতকাল বারাণসীতে রোড শো করার পর দলের কর্মী সভায় চলতি লোকসভা নির্বাচনে প্রচার কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি সম্পর্কে এই আশার বাণী শোনালেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ”সব জায়গায় মানুষ বলছেন, আবারও…।”

নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঠিক আগের দিন, বৃহস্পতিবার জনপ্লাবনে ভেসে গিয়ে, বারাণসী শহরকে কার্যত অচল করে দিয়ে মোদী রোড শো করেন। নিজের কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে সমর্থনের হাওয়া আঁচ করে খুব স্বাভাবিক ভাবেই তিনি আশান্বিত। সেই আশা দলীয় কর্মীদের মধ্যে সঞ্চারিত করার জন্যই তিনি বলেন, ”কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত এক বিপুল উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এই প্রথম একটি নির্বাচন হচ্ছে যেখানে হাওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে। সব জায়গায় মানুষ বলছেন, আবারও…।”

সাত দফা নির্বাচনের শেষ দফা অর্থাৎ ১৯ মে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন কেন্দ্র বারাণসীতে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। সারা দেশ জুড়ে নির্বাচনী প্রচারে ঘুরে বেড়ালেও নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে খুব বেশি সময় মোদী দিতে পারেননি। কিন্তু প্রচারের কাজে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে সে বিষয়ে তিনি যে যথেষ্ট মনোযোগী ও সতর্ক সেটা তিনি দলীয় কর্মীদের সভায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস কর্মীদের মধ্যে উগ্রতার জন্ম দিতে পারে সেই আশঙ্কায় তাঁর উপদেশ, কেউ যেন ভোটারদের সামনে ঔদ্ধত্য প্রকাশ না করে। অতীতের প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি কংগ্রেসের নাম না করে মোদী বলেন, ”ঔদ্ধত্য দেখাতে গিয়ে যারা ৪০০ আসন পেত তারা এখন ৪০টি আসন পায়।”

বারাণসী’র নির্বাচনকে তিনি সারা দেশের কাছে আদর্শ নির্বাচন হিসেবে তুলে ধরার জন্য আবেদন জানান যাতে বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে এই নির্বাচনকে একটি ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। নির্বাচনী সাফল্যের কিছু ছোটখাটো সূত্র বা ‘টিপস’ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের বলেন, ”পুরুষ ভোটারদের থেকে মহিলা ভোটার যাতে অন্তত পাঁচ শতাংশ বেশি হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।” প্রথমবারের ভোটারদের দিকেও তিনি আলাদা করে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাদেরকে মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়িত করার পাশাপাশি ‘নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ’ ব্যবহার করে তাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করার কথা বলেন। গুরুগম্ভীর আলোচনার পরিবেশ কিছুটা লঘু করার জন্যই রসিকতা করে কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী খরচ কমানোর জন্য সকলেই যেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন, তাতে খাওয়া, কাগজ পড়া, টিভি দেখা সবই নিখরচায় সেরে ফেলা যাবে।

Comments are closed.