মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

কাশ্মীরে চলছে সেনা-জঙ্গি লড়াই, টানা ১৯ দিন ধরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনার কাছে খবর এসেছিল কাশ্মীরের গান্দেরওয়াল এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে কিছু জঙ্গি। সেই শুরু। তারপর থেকে টানা ১৯ দিন ধরে চলছে সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ। ইতিমধ্যেই সেনার গুলিতে দুই জঙ্গি খতম হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্র। এখনও প্রায় ডজনখানেক জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর। তাদেরই খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনা।

সেনা সূত্রে খবর, ২৭ সেপ্টেম্বর গান্দেরওয়ালের ট্রুমখাল জঙ্গলে কিছু জঙ্গি লুকিয়ে থাকার খবর পায় সেনা। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে মিলে যৌথ অভিযান শুরু করে তারা। সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জঙ্গিরা। সেনার পাল্টা গুলিতে খতম হয় এক জঙ্গি। এই খবর টুইটারে জানায় নর্দার্ন আর্মি কম্যান্ড।

তিনদিন পরে ফের জঙ্গিদের গতিবধি টের পায় সেনা। ফের চলে গুলির লড়াই। সে দিনও খতম হয় এক জঙ্গি। সেনার তরফে জানানো হয় এই দুই জঙ্গির কাছ থেকে তিনটি অটোমেটিক রাইফেল ও প্রচুর গুলি উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও সেই অঞ্চলের ম্যাপও উদ্ধার হয় বলে জানানো হয়েছে।

সেই থেকে টানা ১৯ দিন ধরে চলছে এই গুলির লড়াই। যত দিন যাচ্ছে আরও কঠিন হচ্ছে এই অপারেশন। চলতি সময়ে এটাই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার সবথেকে দীর্ঘকালীন অপারেশন বলে জানানো হয়েছে। পরবর্তীকালে প্যারা মিলিটারি কম্যান্ডোদের সাহায্য নিয়েছে সেনা। তাদের নামানো হয়েছে জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকায়।

সেনাসূত্রে খবর, এই এলাকায় এখনও প্রায় ডজনখানেক জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। তাদের কাছে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। জানা গিয়েছে, এই জঙ্গিরা গুরেজ সেক্টর দিয়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢুকেছে। তারপর তারা বন্দিপোরায় পৌঁছেছে। সেখান থেকে তাদের লক্ষ্য দক্ষিণ কাশ্মীরে ঢোকা।

সেনার তরফে জানানো হয়েছে এই এলাকায় অপারেশন চালানো খুনই কঠিন। কারণ এই জঙ্গল প্রায় চার হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এখানে গঙ্গাবল লেক বলে একটি লেক রয়েছে। ২৫ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এই এলাকায় লুকিয়ে থাকা খুবই সহজ। তাই হেলিকপ্টারের সাহায্যে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে জঙ্গিদের মোকাবিলার জন্য ভারতীয় সেনা দুটি পদ্ধতি নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এক, সময় নষ্ট করে জঙ্গিদের রসদ শেষ করা। দুই, ক্রমাগত হেলিকপ্টার ও প্যারা মিলিটারি কম্যান্ডোর সাহায্যে তল্লাশি অভিযান চালানো। এই এলাকায় যে সব গ্রাম রয়েছে সেখানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কারণ সেনার হাতে খতম দ্বিতীয় জঙ্গি একটি বাড়িতে লুকিয়ে ছিল বলেই জানা গিয়েছে। এই এলাকার সব ঢোকা-বেরনোর রাস্তা বন্ধ করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কোনওভাবে এই জঙ্গিরা যদি সেনার নজর এড়িয়ে দক্ষিন কাশ্মীরে ঢুকতে পারে তাহলে সেখানে বড় জঙ্গি হামলা হতে পারে। এমনিতেই জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে উপত্যকার পরিস্থিতি ভালো নয়। তার মধ্যে কোনও জঙ্গি হামলা হোক তা চায় না সেনা। তাই বাকি জঙ্গিদেরও খতম করতে বদ্ধপরিকর তারা।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

Comments are closed.