প্রবল গতিতে ছুটে লক্ষ্যে ছোবল বসাল ‘নাগ’, ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাতে বড় সাফল্য ভারতের

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি ‘নাগ’ মিসাইল। বৃহস্পতিবার সকালে পোখরান ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে নাগ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণেও বড় সাফল্য পেল ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)।

৯২৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল গতিতে ফণা তুলে ছুটে গেল সাপ। ছোবল বসালো নির্ভুল লক্ষ্যে।

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি ‘নাগ’ মিসাইল। বৃহস্পতিবার সকালে পোখরান ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে নাগ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণেও বড় সাফল্য পেল ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)।

সকাল পৌণে সাতটা নাগাদ পোখরানে নাগ মিসাইল ক্যারিয়ার (নামিকা) থেকে প্রবল বেগে ছুটে গিয়ে টার্গেটে আঘাত হেনেছে নাগ। ডিআরডিও জানিয়েছে, আগে আবহাওয়ার চরম পরিস্থিতিতে নাগের নিক্ষেপ সম্ভব হচ্ছিল না। বিশেষত চরম তাপমাত্রায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতি বাধা পাচ্ছিল। কিন্তু পরে সেই ত্রুটি সারিয়ে নেওয়া হয়। এখন দিনে বা রাতে, আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যচ্যুত হয় না। শত্রুপক্ষের যুদ্ধট্যাঙ্কই এর আক্রমণের মূল নিশানা। তাই নাগকে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) বলা হয়।

আরও পড়ুন: ১০ কিমি পাল্লায় অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইলের পরীক্ষা সফল, লাদাখ সংঘাতের আবহে কৌশলগত পদক্ষেপ ভারতের

Anti Tank Guided Missile Nag Successfully Tested Twice in Rajasthan, Testing Process For Missiles Completed | India.com

কেমন এই নাগ ক্ষেপণাস্ত্র?

নাগ মিসাইলকে বলা হয় ‘প্রসপিনা’। চরম তাপমাত্রায় নিক্ষেপের জন্য এতে রয়েছে শক্তিশালী এবং আধুনিক ইনফ্রারেড সিকার। নাগের উন্নত সংস্করণের নামই প্রসপিনা। এই ভার্সন হল ল্যান্ড-অ্যাটাক ভ্যারিয়ান্ট। নাগের মোট পাঁচটি ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে—১) হেলিকপ্টার-লঞ্চড নাগ (হেলিনা), ২) ম্যান-পোর্টেবল ভার্সন (এমপিএটিজিএম) , ৩) এয়ার-লঞ্চড ভার্সন (এই ভার্সনে রয়েছে ইনফ্রা-রেড অ্যাকটিভ রেডার হোমিং সিকার) ৪) নাগ মিসাইল ক্যারিয়ার (নামিকা) যাকে বলে ‘ট্যাঙ্ক বাস্টার’ এবং ৫) ল্যান্ড ভার্সন।

Final trial of DRDO-developed Nag missile successful, ready for induction into Army | India News | Zee News

১৯৮০ সাল নাগাদ ইন্টিগ্রেটেড মিসাইল ডেভলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, নাগ তাদের মধ্যে অন্যতম। এই প্রকল্পের আওতায় বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলি হল অগ্নি, পৃথ্বী, আকাশ এবং ত্রিশূল। ১৯৮৮ সালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের হাত ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। এর প্রোটোটাইপ বানিয়েছে ভারত ডায়ানামিক্স লিমিটেড। ২০০৮ সালে ৪৪৩টি নাগ মিসাইল ও ১৩টি নামিকা ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তাব করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। গত বছর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ঘোষণা করে নাগ মিসাইল সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে।

Field Experiences With Spike ATGM System

ভূমি ও আকাশ দু’জায়গা থেকেই ছোড়া যায় নাগ। তৃতীয় প্রজন্মের এই অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল যে কোনও প্রযুক্তির আধুনিক যুদ্ধট্যাঙ্ক ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। ৪ থেকে ৭ কিলোমিটার পাল্লায় এটি ছুটে গিয়ে হামলা চালাতে পারে। একবার নিক্ষেপের পরে নাগের গতি রোধ করা প্রায় অসম্ভব। নাগের থার্মাল সিস্টেম পাঁচ কিলোমিটার পাল্লায় টি-৫৫ যুদ্ধট্যাঙ্ককে চিহ্নিত করতে পারে। নিক্ষেপের পরে নিজেই লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করে আঘাত করতে পারে এই মিসাইল। ৫০০ মিটার রেঞ্জের যে কোনও টার্গেটে মাত্র ৩.২ সেকেন্ডে আঘাত করতে পারে নাগ। লাদাখ সংঘাতের আবহে এই নাগ মিসাইল ভারতীয় বাহিনীর বড় অস্ত্র হতে পারে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More