ভুয়ো খবরেই পরিযায়ী শ্রমিকরা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে গিয়েছেন, সংসদে দাবি কেন্দ্রের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ভারতে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে লকডাউন ঘোষণা করায় সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েন পরিযায়ী শ্রমিকরা। বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করার সুবাদে নিজেদের রাজ্যে ফেরা সমস্যা হয়ে যায় তাঁদের। আতঙ্ক ছড়ায় কোটি কোটি শ্রমিকের মধ্যে। অবশেষে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্য সরকার বন্দোবস্ত করে তাঁদের রাজ্যে ফেরান। কিন্তু এই সমস্যা নাকি পুরোটাই হয়েছিল ভুয়ো খবর ছড়ানোয়। তার জন্যই নাকি তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে গিয়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। সংসদে এমনটাই দাবি করল কেন্দ্র।

মঙ্গলবার সংসদে তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এই কথা জানায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন ছিল, ২৫ মার্চ লকডাউন ঘোষণার আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কী বন্দোবস্ত করেছিল সরকার। কেন হাজার হাজার শ্রমিক হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেছেন, যার ফলে অনেককে রাস্তাতেই প্রাণ হারাতে হয়েছে।

এই প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, “লকডাউন ঘোষণার পরেই ভুয়ো খবরের জন্য আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল শ্রমিকদের মনে। তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশ ভেবেছিলেন তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন জল, খাবার, স্বাস্থ্য, আশ্রয়ের কী হবে। সেই ভয়েই হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করতে থাকেন তাঁরা।”

নিত্যানন্দ আরও বলেন, “অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিল। তাই লকডাউনের মধ্যে সবার জন্য দরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। খাবার, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো জরুরি পরিষেবা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি।” তিনি জানান, ২৮ মার্চ কেন্দ্রের তরফে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সাহায্যে অসহায় মানুষ ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য খাবার, আশ্রয়, জামা-কাপড় ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করে। এই কাজের জন্য কেন্দ্রের তরফে ৩ এপ্রিল ১১ হাজার ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার অবশ্য কেন্দ্রের আরও একটি মন্তব্যে সরগরম হয়েছে সংসদ। বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, লকডাউনের সময় বাড়ি ফিরতে গিয়ে যে পরিযায়ী শ্রমিকরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণের জন্য কী বন্দোবস্ত করেছে সরকার। তার জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাংওয়ার জানিয়েছেন, “এই ধরনের কোনও ডেটা সরকারের কাছে নেই। অর্থাৎ কেউ মারা গিয়েছেন বা আহত হয়েছেন কিনা সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। তাই ক্ষতিপূরণের কোনও প্রশ্নই আসছে না।”

সরকারের এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। তাদের দাবি, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ধরা পড়েছে বাড়ি ফিরতে গিয়ে অনাহারে, পথশ্রমে রাস্তাতেই মৃত্যু হয়েছে শ্রমিকদের। অনেকে আবার দুর্ঘটনার বলি হয়েছেন। অথচ সরকার বলছে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই সরকার গরিব মানুষদের কথা কতটা ভাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More