সিবিআইয়ের নির্দেশে এ বার মাইক্রোসফটের অ্যাপ নিয়ে অপরাধী ধরতে নামছে ফেসবুক, টুইটার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খবরের কাগজ বা টেলিভিশনের দিন শেষ। পৃথিবী চলছে এখন ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট আর সোশ্যাল মিডিয়া নামক ত্রিশূলের ডগায়। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ফলাটি হলো সোশ্যাল মিডিয়া। ভাঙা সংসার জোড়া লাগায়, সুখের সংসারে ফাটল ধরায়, হারিয়ে যাওয়াকে ফিরিয়ে দেয়, নেতার কুর্শি উল্টে দেয়। উল্টানো কুর্সিকে আবার সোজাও করে। কোম্পানিগুলিকে কোটি কোটি টাকার মুনাফা দেয়, আবার কোনও কোম্পানিকে পথে বসিয়ে ছাড়ে।

এ হেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ক্রিমিনালরা দূরে থাকবে, এ কথা কল্পনাতেও আনা যায় না। আমরা জানিই না, পৃথিবীর তাবড় তাবড় অপরাধীদের ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টেলিগ্রাম সহ অনান্য সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে আছে অবাধ গতিবিধি। ইন্টারনেটের ডার্কওয়েব থেকে এই আইডিগুলি চলে বলে সিকিউরিটি এজেন্সিদের পক্ষে এদের ধরা অসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু এ বার ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ফেসবুক ও টুইটারের মতো প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলিতে মাইক্রোসফটের তৈরি করা ফেস রেকগনিশন আ্যপ্লিকেশন ব্যবহার করতে চলেছে। যা কোটি কোটি ছবির মধ্যে থেকে যে কোনও ইউজারের মুখ চিনতে সক্ষম।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সিবিআই PhotoDNA app নামে একটি আ্যপ্লিকেশন দিয়ে ফেসবুকে ও টুইটারে নজরদারি চালাচ্ছে। যেটা ধরে ফেলবে কোন কোন প্রোফাইল চাইল্ড পর্ন ছড়াচ্ছে। এই সফটওয়্যার দিয়েই সিবিআই এ বার অপরাধীদের নাগাল পেতে চাইছে। এর ফলে এই সফটওয়্যারের আওতায় পড়বে সকল ভারতীয়র অ্যাকাউন্ট। সরকারের এই পদক্ষেপে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। এই পদক্ষেপ গোপনীয়তার পরিপন্থী বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।

PhotoDNA হলো একটি ফ্রি সফটওয়্যার। এটা সারা বিশ্বে শিশু পর্নোগ্রাফি ও উগ্রপন্থীদের পোস্ট খুঁজে বের করতে ও তার প্রতিরোধ করতে ব্যবহৃত হয়।

সিবিআই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৯১ নং ধারা অনুযায়ী ভারতে সক্রিয় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নোটিস জারি করেছে। সেই নোটিসে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে তদন্তের স্বার্থে PhotoDNA ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। যার সাহায্যে সিবিআই ফেসবুক , টুইটার বা অন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্রিমিনালদের পোস্ট করা ছবি কোটি কোটি ছবির মধ্যে থেকে এক মিনিটে খুঁজে বের করতে সক্ষম। এই সফটওয়্যারটি একটি ছবিতে একটিই ডিজিটাল সাক্ষর বসিয়ে দেবে। পরবর্তী ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার কোটি কোটি ছবির মধ্যে সেই ছবির সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া ছবি নিমেষে খুঁজে বের করে দেবে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে আমেরিকার National Center for Missing and Exploited Children (NCMEC), the Internet Watch Foundation এবং Project Vic নামের সংস্থাগুলিও সিবিআইয়ের মতো অপরাধমনষ্ক গ্রাহকদের ট্র্যাক করতে চাইছে। ভারত সরকারের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ ফ্রি-ইন্টারনেট বা ইন্টারনেটের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এটা অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন। অনেকে আবার বলছেন, এ বার নিশ্চিন্তে থাকা যাবে। কারণ ইন্টারনেট জালিয়াত থেকে শুরু করে আইসিস, আলকায়দা সহ অনান্য মৌলবাদী দলগুলি কিন্তু জালিয়াতি আর মৌলবাদের জাল বিস্তার করে ও মগজধোলাই করে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে ব্যবহার করেই। তাই ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ তারিফ যোগ্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More