মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১
TheWall
TheWall

ফেসবুক যেন ‘ভার্চুয়াল কবর’! রমরম করে চলছে ৮ হাজার মৃত ব্যক্তির প্রোফাইল, উদ্বিগ্ন সাইবার বিশেষজ্ঞরা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো অ্যাকাউন্ট, তথ্য পাচারের অভিযোগ তো আগেই ছিল, সাইবার বিশেষজ্ঞদের মাথা ব্যথা বাড়িয়ে দিয়েছে মৃতদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।  গোটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ঘিরেই মৃতদের অ্যাকাউন্টের ভিড়। সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে আট হাজারে। দিন দিন সেটা আরও বাড়ছে। একসময় জীবিতদের থেকেও মৃতদের প্রোফাইলে ভরে যাবে ফেসবুক, আশঙ্কা এমনটাই।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে ফেসবুকে গ্রাহকের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০০ কোটি। হোয়াটস্অ্যাপে ১৫০ কোটি, ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৩৩ কোটি। হোয়াটস্অ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের আলাদা প্রাইভেসি পলিসি রয়েছে, যেটা ফেসবুকের ক্ষেত্রে নেই। তাই কোনও ফেসবুক গ্রাহকের যদি মৃত্যু হয়, তাহলে তার অ্যাকাউন্ট একই রকম ভাবে থেকে যায় ফেসবুকে। হয় তাঁর নিজের কোনও আত্মীয় বা বন্ধু দখল নেয় সেই অ্যাকাউন্টের অথবা সেটা পুরোপুরি চলে যায় হ্যাকারদের কবলে। সমীক্ষা বলছে বিশ্বজুড়ে অন্তত পাঁচ কোটি অ্যাকাউন্টের দখল নিয়েছে হ্যাকাররা। তার মধ্যে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্টের গ্রাহকই মৃত।

জাতীয় সাইবার দলের অন্যতম শীর্ষ কর্তা পবন দুগ্গলের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকের যদি মৃত্যু হয়, তাহলে তার অ্যাকাউন্টের দখল নেওয়ার জন্য বিশেষ অনুমতি নেওযার প্রয়োজন হয়। সাধারণত গ্রাহকের সন্তান বা কোনও নিকট আত্মীয় অথবা অভিভাবকেরই সেই অধিকার থাকে। এই প্রক্রিয়াকে সাইবার দুনিয়ায় বলা হয় ‘ডিজিটাল উত্তরাধিকার’। যেহেতু ফেসবুকের পলিসির ক্ষেত্রে কোনও জোরদার নিয়মকানুন নেই, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই অ্যাকাউন্ট বেআইনি ভাবে হাতবদল হয়ে যায়। গ্রাহকের নাম ভাঙিয়ে অপরাধমূলক কাজ হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে।

দুগ্গল জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে লগ ইন করা সম্ভব হয় না, কোনও গ্রাহকরে মৃত্যু হলে ইমেল করে সেটা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। অনুমতি নিয়েই তবে অন্য গ্রাহকরে অ্যাকাউন্ট অ্যাকসেস করা সম্ভব হয়। টুইটারের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা একই রকম। কোনও গ্রাহকের অ্যাকটিভ অ্যাকাউন্ট থাকলে অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে টুইটার। মৃত গ্রাহকের সবচেয়ে নিকট আত্মীয় সে ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন, তবে তার জন্য আইডেন্টিটি প্রুফ দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

মার্ক জ়াকারবার্গের সহপাঠী অ্যারন গ্রিনস্প্যান দাবি করেছিলেন, ১০০ কোটি জাল অ্যাকাউন্ট রয়েছে ফেসবুকে। যা ফেসবুকের মোট গ্রাহকের ৫০ শতাংশ। ‘রিয়েলিটি চেক’ নামে ৭০ পাতার একটি রিপোর্টও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘নকল অ্যাকাউন্ট নিয়ে যে কতটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় গ্রাহকদের, তা এতদিন পরিষ্কার করে জানায়নি ফেসবুক। ফেসবুকের যত প্রোফাইল রয়েছে তার ৫০ শতাংশই ভুয়ো। এই জাল প্রোফাইলের মাধ্যমে ফেসবুকের অনেক গ্রাহকই প্রতারিত হয়েছেন, নকল খবর ছড়িয়েছে, বিভিন্ন দেশের প্রশাসনও এর ফাঁদে পড়েছে।’

Share.

Comments are closed.