গতি কমিয়ে ‘ব্রেক’ কষতে পারেনি ‘বিক্রম,’ তাই কি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ২.১ কিলোমিটার উপরে থাকার সময় শেষ সিগন্যালটা এসেছিল। তারপর থেকেই আর কোনও পাত্তা নেই ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-এর। ইসরো জানিয়েছে, সফট ল্যান্ডিং-এর আগে যে চারটি পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হত বিক্রমকে, গলদ হতে পারে সেখানেই। বেঙ্গালুরু এক মহাকাশবিজ্ঞানী জানিয়েছেন, চাঁদের মাটি থেকে ১০০ কিলোমিটারের ওই দূরত্ব কমিয়ে আনার সময় গতিও পর্যায়ক্রমে কমাতে হত বিক্রমকে। সেই গতির একটা মাপও আছে। চূড়ান্ত প্রক্রিয়াটা হলো ‘টাচ ডাউন।’ যেটা শেষ ১৫ মিনিটে হওয়ার কথা ছিল। এই সময় ঠিকমতো ব্রেক কষে চাঁদের মাটিতে নামতে হত ল্যান্ডারকে। এই ব্রেক কষতে গিয়েই কোনও ভাবে হয়তো গতি বেড়ে ছিটকে গেছে বিক্রম।

    গলদ হতে পারে ফাইন-ব্রেকিং পর্যায়ে

    ইসরো জানিয়েছে, অরবিটার থেকে আলাদা হওয়ার পরে একটু একটু করে চাঁদের দিকে এগিয়ে গেছে বিক্রম। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে শেষ ১০০ কিলোমিটারের দূরত্ব পেরিয়ে অবতরণের জন্য মোট চারটি পর্যায় ছিল, রাফ ব্রেকিং, ফাইন ব্রেকিং, হোভারিং ও প্যারাবোলিক ডিসেন্ট। রাফ ব্রেকিং উতরে গিয়েছিল বিক্রম। সমস্যা হয়েছিল ফাইন ব্রেকিং-এর সময়।

    বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের ৩০ কিলোমিটার উপর থেকে নামা শুরু করার সময় বিক্রমের গতি ছিল ১,৬৮০ মিটার প্রতি সেকেন্ড। পরবর্তী ১০ মিনিটে সেটা ক্রমশ কমে দাঁড়ায় ১৪৬ মিটার/সেকেন্ড। এর পর শুরু হয় ফাইন-ব্রেকিং স্টেজ। চাঁদের থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরত্বে গতির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বিক্রম। শেষ ২.১ কিলোমিটারে তাই আর কোনও যোগাযোগই করা যায়নি তার সঙ্গে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ১টা ৫৫ মিনিট।

    চাঁদের ধুলোয় মহাজাগতিক রশ্মির বিকিরণে তাপমাত্রা বাড়তে পারে

    আগামী ১৪ দিন ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিক্রমের থেকে সিগন্যাল মেলার অপেক্ষায় থাকবে ইসরো। এই সময়ের মধ্যে অরবিটারও কোঁজ চালাবে বিক্রমের। মহাকাশবিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদে যে ১৪ দিন কাজ করার কথা ছিল রোভার প্রজ্ঞানের, সেই ১৪ দিন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সূর্যের আলো পড়ার কথা। হিমশীতল, অন্ধকার দক্ষিণ মেরু অভিযানের জন্য তাই ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর মধ্যেকার সময়টাকেই বেছে নিয়েছিল ইসরো। কারণ, বিক্রম ও প্রজ্ঞান চলবে সৌরবিদ্যুৎশক্তিতে, তাই গবেষণা, অনুসন্ধান, পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য চাঁদের ওই অংশে সূর্যের আলোকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবে ল্যান্ডার ও রোভার।

    গবেষকদের মতে, পৃথিবীর আয়োনোস্ফিয়ার যেমন মহাজাগতিক রশ্মিকে প্রতিফলিত করতে পারে। চাঁদে তেমনটা হয়না। সরাসরি আছড়ে পড়ে চাঁদের বুকে। আর চাঁদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ণ ধুলিকণায় সেই রশ্মির ঝাপটা লেগে উত্তাপ অনেকটাই বাড়ে। ল্যান্ডিং-এর সময় বিক্রম গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই ধূলিকণা যন্ত্রের ভিতরে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তা ছাড়া ধূলিকণার ঘর্ষণে উৎপন্ন তাপও রেডিও যোগাযোগ ছিন্ন করে দিতে পারে।

    আরও পড়ুন:

    চাষির ছেলে থেকে ভারতের ‘রকেট ম্যান,’ খালি পায়ে কেটেছে কিশোরবেলা, তিনিই এখন ভাসান চাঁদের ভেলা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More