অ্যাক্সিসই নতুন চাণক্য, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গেল হুবহু

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রদীপ গুপ্তকে মনে পড়ে?

    গত ২৩ মে যখন বিজেপি কর্মীদের গেরুয়া আবির মাখা মুখ আর নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের ছবিতে ছয়লাপ, তখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোকের হাউহাউ কান্নার ক্লিপিং। সঙ্গে ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা তৃপ্তির হাসি। তিনি প্রদীপ গুপ্ত। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সেফোলজিস্ট। তাঁর টিম যে সমীক্ষা চালিয়েছিল, তা প্রায় একশোয় একশো শতাংশ মিলে গিয়েছিল। ‘ইন্ডিয়া টুডে’র স্টুডিওতে বসে আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন প্রদীপ।

    বৃহস্পতিবার হরিয়ানা আর মহারাষ্ট্রের ভোটে আবার মিলে গেল অ্যাক্সিসের পূর্বানুমান। একেবারে হুবহু।

    সোমবার ভোট শেষ হতেই সমীক্ষা প্রকাশ শুরু করে দিয়েছিল বিভিন্ন সংস্থা। মহারাষ্ট্র আর হরিয়ানা—দুই রাজ্যেই বিজেপি হাসতে হাসতে জিতবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তারা। কিন্তু অ্যাক্সিস থমকে গিয়েছিল। মহারাষ্ট্রের কথা বললেও সেদিন কিন্তু তারা বলেনি হরিয়ানায় কী হতে চলেছে। বরং তার প্রায় চব্বিশঘণ্টা পর মঙ্গলবার সন্ধেবেলা অ্যাক্সিস যে ফলাফল জানিয়েছিল, তাতে ইঙ্গিত ছিল হরিয়ানায় সরকার গড়তে হয়রান হতে হবে বিজেপিকে। হলও তাই।

    হরিয়ানা বিধানসভায় ৯০টি আসন রয়েছে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে গেলে ৪৬ টি আসনে জিততে হবে। অ্যাক্সিসের সমীক্ষা বলেছিল, হরিয়ানায় ৩২ থেকে ৪৪ টি আসনে জিততে পারে বিজেপি। বরং অপ্রত্যাশিত ভাবেই সেখানে ভাল ফল করতে পারে ভূপেন্দ্র সিংহ হুডার নেতৃত্বে কংগ্রেস। সাবেক জাতীয় দল পেতে পারে ৩০ থেকে ৪২টি আসন। এ ছাড়া ওমপ্রকাশ চৌটালার নাতি দুষ্মন্ত চৌটালার জননায়ক জনতা পার্টি পেতে পারে ৬ থেকে ১০ টি আসন। সেই সঙ্গে ৬ থেকে ১০ টি আসনে জিততে পারেন নির্দলরা। এর অর্থ পরিষ্কার। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের তুলনায় কম আসনে জিততে পারে বিজেপি। গণনার শেষ লগ্নে দেখা গেল ওই সংখ্যার মধ্যেই থাকবে বিজেপির আসন।

    বিশেষজ্ঞদেরও মত হল, বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে যে ভোট শতাংশ পাওয়া যায়, তা থেকে ভোটারদের মুড বোঝা যায়। ওই ভোট শতাংশ থেকে আসন সংখ্যা নিরূপণের প্রক্রিয়া অবশ্য সব সময় ত্রুটিমুক্ত হয় না। গত দশ বছরে চাণক্য এবং অ্যাক্সিস যে বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলি করেছে, তা সিংহভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক ফলাফলের ইঙ্গিত করেছে। ২০০৯, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে চাণক্য সমীক্ষার ভিত্তিতে সঠিক পূর্বানুমান করেছিল। তা ছাড়া গত দশ বছরে অধিকাংশ বিধানসভা ভোটে তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষা কমবেশি সঠিক হয়েছিল। একমাত্র ২০১৫ সালে বিহার নির্বাচনে তাদের সমীক্ষা ডাহা ফেল করে। তারা বলেছিল, বিহারে সরকার গড়তে পারে বিজেপি । কিন্তু ফল হয়েছিল একেবারে উল্টো।

    মজার ঘটনা হল, ২০১৫ সালে বিহার ভোটের সমীক্ষা থেকে নবরূপে অ্যাক্সিসের উদয়। ওই ভোটে অধিকাংশ বুথ ফেরত সমীক্ষা যখন বিজেপি উজ্জ্বল সম্ভাবনার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তখন অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া তাদের সমীক্ষায় দাবি করেছিল যে বিহারে লালু প্রসাদ-নীতীশ কুমার-কংগ্রেসের জোট সুইপ করতে চলেছে। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ আসন জিততে পারে তাঁরা। অ্যাক্সিসের সেই পূর্বানুমান হুবহু সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল।

    উনিশের লোকসভাতেও গোটা দেশ এবং সেই সঙ্গে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এই দুই সমীক্ষায় মোটামুটি ভাবে জনমত সঠিক প্রতিফলন পাওয়া গিয়েছে। ভোট ফলাফলে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

    এর পরেও আগামী দিনে বুথ ফেরত সমীক্ষা মানেই নিশ্চিত ভাবে সঠিক হবে বলে মনে করার কারণ নেই। কিন্তু এও ঠিক তা পুরোপুরি ভাঁওতাও বলা যাবে না। আর হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের ফল দেখে অনেকেই বলছেন, ভারতের সেফোলজিতে অ্যাক্সিস নতুন মাইললফলক তৈরি করছে। একের পর এক। তাঁদের মতে, অ্যাক্সিসই এখন নতুন চাণক্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More