রাজ্যসভায় বিরোধীদের ‘শেম শেম’ স্লোগান, তার মাঝেই শপথ রঞ্জন গগৈয়ের

এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শপথবাক্য পাঠ শুরু করতেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী সাংসদরা হট্টগোল জুড়ে দেন সংসদে। তাঁদের বক্তব্য, বিচারব্যবস্থার সঙ্গে আপস করেই গগৈ মনোন্যন পেয়েছেন। ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার দেওয়া সদ্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির শপথের মাঝেই সমাজবাদী পার্টি ছাড়া বাকি সমস্ত বিরোধী দলের সাংসদরা অধিবেশন থেকে অয়াকআউট করেন।  

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছিল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মনোনয়নে এবার রাজ্যসভায় যাচ্ছেন দেশের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তারপর থেকেই সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছিল। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিলেন গগৈ। আর সেই শপথগ্রহণের মাঝেই বিরোধীদের ‘শেম শেম’ চিৎকারে উত্তাল হল রাজ্যসভার অধিবেশন।

    এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শপথবাক্য পাঠ শুরু করতেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী সাংসদরা হট্টগোল জুড়ে দেন সংসদে। তাঁদের বক্তব্য, বিচারব্যবস্থার সঙ্গে আপস করেই গগৈ মনোন্যন পেয়েছেন। ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার দেওয়া সদ্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির শপথের মাঝেই সমাজবাদী পার্টি ছাড়া বাকি সমস্ত বিরোধী দলের সাংসদরা অধিবেশন থেকে অয়াকআউট করেন।

    এরপর গগৈয়ের পক্ষে বলতে ওঠেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি বলেন, “রাজ্যসভার একটা ঐতিহ্য আছে। এখানে বছরের পর বছর ধরে সমাজের নানা ক্ষেত্রের দিকপালরা মনোনীত হয়ে এসেছেন। এর আগে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিও রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন। এই ধরনের হট্টগোল যাঁরা করছেন, তাঁরা বোধহয় হাউসের ঐতিহ্য সম্পর্কেই অবহিত নন!”

    রঞ্জন গগৈ বলেন, “ আমি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলাম তার কারণ, আমি মনে করি কিছু বিষয়ে আইনসভা ও বিচারব্যবস্থার ঐক্যবদ্ধ ভাবে চলা উচিৎ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সং সদে আমার উপস্থিতি সেই সুযোগ তৈরি করবে।” এদিন রঞ্জন গগৈয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী, কন্য এবং জামাইও।

    বিরোধীদের হট্টগোল নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করেন রাজ্যসভার অধ্যক্ষ তথা উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। তিনি বলেন, “নিয়ম মেনেই রাষ্ট্রপতি এই মনোনয়ন দিয়েছেন। বিরোধীরা যে ধরনের আচরণ করছেন, তা কাম্য নয়।”

    প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন অসংখ্য মামলার রায় দিয়েছেন গগৈ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তিন তালাক প্রথা বন্ধ, অযোধ্যা মামলা এবং কেরলের শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে রিভিউ মামলার রায়। তিন তালাক প্রথা বন্ধ করায় সেই সময় দেশজুড়ে প্রশংসা হয়েছিল গগৈয়ের। অবসর নেওয়ার ঠিক আগেই ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দেন রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। এর ফলে বহু বছর ধরে চলতে থাকা অযোধ্যা মামলার নিষ্পত্তি হয়। এছাড়াও তাঁর নির্দেশেই অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ তথা এনআরসির কাজ শুরু হয়। সেই সময়ে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলে গগৈ বলেছিলেন, এনআরসি শুধু নথি নয়, আগামীর ভিত্তি।

    অসমের ভূমিপুত্র রঞ্জন গগৈই প্রথম যিনি উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে দেশের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। ১৯৭৮ সাল থেকে গুয়াহাটি হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি হন তিনি। পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টেও স্থানান্তর করা হয়েছিল তাঁকে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে সেখানকার প্রধান বিচারপতি হন গগৈ। ১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন তিনি। গগৈয়ের পর প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান এস এস বোবদে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More