বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

চশমায় লাগানো ছিল ভিডিও ক্যামেরা, তাতেই ধরা পড়েছে চিন্ময়ানন্দের কুকীর্তি, তরুণী পেন ড্রাইভ দিলেন পুলিশকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি-র বর্ষীয়াণ নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ করলেন উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের কলেজ ছাত্রী। শুধু অভিযোগ নয়, চিন্ময়ানন্দের কুকীর্তির ভিডিও ছবি তুলে রেখেছেন বলে তাঁর দাবি। সেই ভিডিও আছে পেন ড্রাইভে। তরুণীর এক বন্ধু সেই পেন ড্রাইভ তুলে দিয়েছেন পুলিশের হাতে।

কিছুদিন আগে তরুণীর অভিযোগ নিয়ে তদন্তের জন্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট। সেই টিম অভিযোগকারিণীকে ১৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে বলে জানা যায়। তরুণী জানিয়েছেন, এক বছর ধরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বহুবার তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। তার ভিডিও ছবি তুলে ব্ল্যাকমেলও করেছেন।

অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁরও চশমায় ক্যামেরা লাগানো থাকত। তাতে যে ছবি উঠেছিল, তিনি পেন ড্রাইভে জমা করে রেখেছিলেন।  পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর ১২ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, যে গত বছর জুন মাসে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ৭৩ বছর বয়সী চিন্ময়ানন্দের। সাহারানপুরের কলেজে ভর্তির আর্জি নিয়ে তিনি চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। যে দিন তিনি চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে দেখা করেন, সে দিন ‘স্বামীজি’ তাঁর কাছ থেকে ফোন নম্বর চেয়ে নেন। তার পর ক’দিনের মধ্যে কলেজে তাঁর ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। যেহেতু তাঁদের পারিবারিক অবস্থা ভাল নয়, তাই কলেজের লাইব্রেরিতে মাসিক পাঁচ হাজার টাকার বেতনের একটা কাজের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন চিন্ময়ানন্দ।

প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বহুদিনের পোড় খাওয়া নেতা হলেন চিন্ময়ানন্দ। বাজপেয়ী জমানায় তিনি কেন্দ্রে মন্ত্রীও ছিলেন। উত্তরপ্রদেশে তাঁর বেশ কিছু আশ্রম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পুলিশের কাছে ছাত্রীটি অভিযোগ করেছেন, গত অক্টোবর মাসে তাঁকে ডেকে চিন্ময়ানন্দ বলেন, বাড়ি থেকে কেন যাতায়াত করবে? হস্টেলে এসে থাকো। তার পর তিনি কলেজ হস্টেলে চলে আসেন। কিন্তু এর কয়েক দিন পর আশ্রমে ডেকে তাঁকে একটি ভিডিও দেখান চিন্ময়ানন্দ। তা হল, হস্টেলের বাথরুমে ওই ছাত্রীর স্নানের ভিডিও। ছাত্রীটির অভিযোগ, এর পর চিন্ময়ানন্দ তাঁকে বলেন তাঁর সঙ্গে সহবাস করতে, তা না করলে ওই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে ধর্ষণ করার সময় তা ভিডিও রেকর্ডিং করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ছাত্রীটি। পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন, এ সব গত জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে থাকে। এক টানা এই যৌন অত্যাচারে বিধ্বস্ত হয়ে তিনি অগস্ট মাসে একটি ফেসবুক ভিডিও পোস্ট করে চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলি করেন এবং হস্টেল থেকে পালিয়ে যান।

এখানেই থেমে থাকেননি ওই ছাত্রীটি। তিনি বলেন, পুলিশের সমস্ত রকম জেরা ও জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত। তাঁর কাছে হস্টেলের যত ভিডিও রয়েছে তাও পুলিশের হাতে তুলে দিতে রাজি। কিন্তু অভিযুক্তকে যেন আগে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কেন না সাহারানপুরের জেলাশাসক পর্যন্ত তাঁর বাবাকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ছাত্রীটির এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিন্ময়ানন্দ। তাঁর আইনজীবী ওম সিংহ বলেছেন, গত ২৪ অগস্ট ফেসবুক পোস্টে যখন ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন তখন এই সব কিছু বলেননি। এখন এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।

Comments are closed.