বাজেটে কী পেল আমজনতা, কী পেলেন আপনি, দিনের শেষে হিসেব-নিকেশ

২ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের বক্তৃতায় সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব ফেলল এই বাজেট। জীবনযাপন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কী ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশকের প্রথম বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ভারতের ইতিহাসে সবথেকে বেশি সময় ধরে (২ ঘণ্টা ৪১ মিনিট) বাজেট বক্তৃতা করেছেন তিনি। নিজেরই ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট বক্তৃতার রেকর্ড ভেঙেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। মানুষের জীবনযাপনের সুবিধে, ডিজিটাল বিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে কিছু ঘোষণা করেছেন নির্মলা। সব মিলিয়ে এই বাজেটের কী প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের উপরে। সবথেকে বড় প্রভাব হল করের কাঠামোতে পরিবর্তন। এছাড়াও ব্যাঙ্কে সুদের হার, কিষাণ রেলের ঘোষণা, বিমানবন্দরের সংখ্যা বাড়ানো, ইঞ্জিনিয়ারদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা প্রভৃতি ঘোষণা সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে অর্থনৈতিক মহল।

    এদিন নির্মলা সীতারমন বলেন, আগের নিয়ম মতো এখনও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ে কোনও আয়কর দিতে হবে না। এর পরে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে প্রতি ধাপে ৫ শতাংশ করে কমল করের হার। বছরে ৫ লক্ষ থেকে ৭.৫ লক্ষ আয় হলে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। আগে করের হার ছিল ১৫ শতাংশ। ৭.৫ থেকে ১০ লক্ষের মধ্যে আয় হলে কর ১৫ শতাংশ। আগে করের হার ছিল ২০ শতাংশ। ১০ থেকে ১২.৫ লক্ষ আয় হলে ২০ শতাংশ। আগে করের হার ছিল ৩০ শতাংশ। ১২.৫ থেকে ১৫ লক্ষ আয় হলে ২৫ শতাংশ। আগে করের হার ছিল ৩০ শতাংশ। ১৫ লক্ষের বেশি আয় হলে ৩০ শতাংশ কর। আগে করের হার ছিল ৩০ শতাংশ। আগের নিয়ম মতোই পাঁচ লক্ষ পর্যন্ত যাঁদের আয়, তাঁদের কর দিতে হবে না। আর যাঁদের বার্ষিক আয় ১৫ লক্ষ টাকার বেশি তাদের করের হার কমেনি।

    ব্যাঙ্ক ডিপোজিট স্কিমেও বদল ঘটানো হয়েছে বাজেটে। এদিন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, ব্যাঙ্কের ডিপোজিট ইনসিওরেন্স বাড়িয়ে করা হচ্ছে পাঁচ লক্ষ। এর অর্থ কোনও আমানতকারীর যত টাকাই জমা থাকুক, ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হলে তিনি পাবেন পাঁচ লক্ষ টাকা। গত সেপ্টেম্বরে মুম্বইয়ের পাঞ্জাব অ্যান্ড মহারাষ্ট্র ব্যাঙ্কের কাজকর্মে গুরুতর অনিয়ম খুঁজে পায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। অভিযোগ, ওই ব্যাঙ্ক অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখিয়েছিল। তার পরে আমানতকারীরা ব্যাঙ্ক থেকে আর টাকা তুলতে পারেননি। তাতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সেই সংকটের কথা মাথায় রেখেই নির্মলা এদিন ব্যাঙ্ক ডিপোজিট স্কিম পাঁচগুণ বাড়িয়েছেন।

    এদিনের বাজেটে ‘কিষাণ রেল’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। নির্মলা জানিয়েছেন, এই কিষাণ রেল শুধুমাত্র কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহণের কাজে ব্যবহার করা হবে। পচনশীল পণ্য যেমন সবজি, আলু, পেঁয়াজ, মাছ, মাংস প্রভৃতি দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতে পরিবহণ করা যায় তার জন্যই এই কিষাণ রেলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, ১৫০টি নতুন ট্রেন তৈরি করা হবে পিপিপি মডেলে। অর্থাৎ এই ট্রেনগুলির ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ হবে। সেইসঙ্গে কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

    রেল ছাড়াও বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও চমক দিয়েছেন নির্মলা সীতারমন। তিনি বলেন, “বিমান পরিষেবার উপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। ফলে ২০২৪ সালের মধ্যে ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় ১০০টি বিমানবন্দর তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।” বিমানবন্দরের সংখ্যা বাড়লে তা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বাড়বে বলেই বক্তব্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর।

    এদিনের বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সাহায্য নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ জুড়ে ১৫০টি উচ্চশিক্ষা কোর্স চালু করা হবে। যেসব ইঞ্জিনিয়াররা নতুন পাশ করে বেরাচ্ছেন, তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য বেশ কিছু শহরের স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এইসব প্রশাসনে ইঞ্জিনিয়াররা ১ বছর পর্যন্ত ইন্টার্নশিপ করতে পারবেন। নির্মলা আরও বলেন, পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ছেলেমেয়েদের জন্য পুরোদস্তুর অনলাইন প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এই প্রোগ্রাম দেশের মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ১০০ তে থাকা ইনস্টিটিউটগুলিতে প্রথমে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির জন্য পিপিপি মডেল অনুসরণ করে প্রতিটি জেলা হাসপাতালের সঙ্গে একটি করে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন নির্মলা সীতারমন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More