আচ্ছে দিন? ৬ বছরে সব থেকে কম আর্থিক বৃদ্ধি, জুন ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির দর নেমে এসেছে ৫ শতাংশে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী জমানায় দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে সরকার। তাতে দেখা গেল, গত ৬ বছরে এই প্রথম আর্থিক বৃদ্ধির হার এখন এতো কম। এপ্রিল থেকে জুন,- এই ত্রৈমাসিকে গড় জাতীয় উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ৫ শতাংশ হারে।
মন্দা এবং অর্থনৈতিক মন্দোগতির মেঘ যে ঘনাচ্ছে তা এ বছরের গোড়া থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। জানুয়ারি থেকে মার্চ,- বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে গড় জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৮ শতাংশ। দেখা গেল, তার পর বৃদ্ধির হার আরও কমে গিয়েছে।

গত বছর এই তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের থেকে এ বছর এই তিন মাসে বৃদ্ধির হার প্রায় তিন শতাংশ কমেছে। যা ঘোর উদ্বেগের বইকি। এবং এই পরিস্থিতি মোদী সরকারকে রাজনৈতিক চাপেও ফেলে দিতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

আর্থিক বৃদ্ধির এতটাই খারাপ হাল হয়েছিল ছ’বছর আগে। তখন মনমোহন সরকারের শেষ বছর। ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছিল ৪.৩ শতাংশ। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে মনমোহন সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তখন নরেন্দ্র মোদী যে সব বাছা বাছা বিশেষন ব্যবহার করেছিলেন, তা বহু মানুষই বিস্মৃত হননি। সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়েই মোদী তৈরি করেছিলেন আচ্ছে দিনের স্বপ্ন মঞ্জিল!

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নের মুখে প্রধানমন্ত্রী- আচ্ছে দিন কোথায় গেল?

অর্থনীতির অবস্থা যে বেহাল তা সরকার অবশ্য এখনও স্বীকার করেনি। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি যে সরকারের মধ্যে প্যানিক তৈরি করেছে তা ঢেকে রাখা যাচ্ছে। বাজার তথা শিল্প মহলের আস্থা ফেরাতে গত শুক্রবার এক প্রস্ত ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। কর আদায় ব্যবস্থা সহজ করা থেকে শুরু করে গাড়ি শিল্পের জন্য আর্থিক ছাড় ঘোষণা ইত্যাদি করেছেন তিনি। আজ আবার, নতুন এক প্রস্ত ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, দেশের ১০ টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে চারটি বড় ব্যাঙ্কে পরিণত করা হবে। তার ফলে তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা আরও বাড়বে। কিন্তু এর পরেও প্রশ্ন রয়েছে, ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে বাজারে আগ্রহ রয়েছে কি? কেন না নীতি আয়োগের ডেপুটি চেয়ারম্যানই কদিন আগে স্বীকার করেছেন, বাজারে কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। শুধু সরকারের উপর আস্থার ঘাটতি নেই। বেসরকারি ক্ষেত্রেও পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি রয়েছে।

এই অবস্থায় অর্থনীতিকদের মতামত নিয়ে কদিন আগে রয়টার্স কিন্তু ইঙ্গিত দিয়েছিল যে এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে আগের তুলনায় বৃদ্ধির দর অবধারিত ভাবেই কমতে পারে।

হলও তাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে চাহিদা নেই। তাই উৎপাদনও কমছে। সেই সঙ্গে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগও হচ্ছে না। এই ত্র্যহস্পর্শেই অর্থনীতির অধোগতি হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More