বুধবার, অক্টোবর ১৬

ভোট প্রচারে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ হোক, কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট প্রচারে প্লাস্টিকের ব্যবহার আর নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেছে। শনিবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা বলেছেন, দুই রাজ্যেই ভোট হবে ২১ অক্টোবর। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ২৪ অক্টোবর। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী একমাস নির্বাচনী প্রচারে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের কোনও দলই প্লাস্টিক বা ওই জাতীয় বস্তু ব্যবহার করতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ভোটের প্রচারে পাটের মতো প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার বাড়ানো হোক। কমানো হোক প্লাস্টিক জাতীয় বস্তুর ব্যবহার। কিন্তু দেখা গেছে, ভোটের বাদ্যি বাজতে না-বাজতেই ফ্লেক্সের দোকানে বরাত উপচে পড়ে। ভোটের প্রচারে যথেচ্ছ ভাবে ব্যবহার করা হয় ফ্লেক্স, পলিথিনের ব্যানার।

মুখ্যনির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার কথায়, “পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে জেনেও প্রচারে যথেচ্ছ ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিক-ফ্লেক্স। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে জানানো হয়েছে, ভোটের প্রচারে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে। ফ্লেক্সে বা ব্যানারে কোথাও প্লাস্টিক বা ওই জাতীয় জিনিস ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তকে আমরা দীর্ঘমেয়াদী রূপ দিতে চলেছি।”

পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, ভোট মিটলে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রচারের ফ্লেক্স তখন এলাকায় প্লাস্টিকের জঞ্জাল বাড়ায়। যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে ক্ষতি করে ভোটারদেরই। নির্বাচনে যে-হারে নির্বিচারে ফ্লেক্স টাঙানো হয়, তাতে বিধিনিষেধ আরোপ না করলে প্লাস্টিক দূষণ বাড়তেই থাকবে।

বস্তুত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ২০২২ সালের মধ্যে প্লাস্টিকমুক্ত দেশ গড়তে চান তিনি। আগামী ২ অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনেই হবে তার প্রথম পদক্ষেপ। ওই দিন থেকে ছ’রকমের প্লাস্টিকজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ হবে গোটা দেশে। প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি অনলাইন ব্যবসার সংস্থাগুলিকেও জানানো হয়েছে, প্লাস্টিকের প্যাকেটে তাদের সামগ্রী প্যাক না করতে। তা হলেই বার্ষিক প্লাস্টিক ব্যবহার চল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি কমানো যাবে বলে সরকারি সূত্র জানাচ্ছে।

Comments are closed.