TheWall

গরুকে কম্বল দান করলেই মিলবে বন্দুকের লাইসেন্স, আজব নীতি চালু হল এই রাজ্যে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্দুকের লাইসেন্স দরকার? না, কোনও ব্যক্তিগত তথ্য দরকার নেই। লাগবে না কোনও জরুরি নথিও। চোখ-কান বুঝে শুধু গোশালায় দশটি কম্বল দান করতে হবে। তাহলেই কেল্লাফতে! আপনাকে হাতে হাতে বন্দুকের লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হবে। এমন আজব নীতি চালু হল মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে।

গোয়ালিয়রের জেলাশাসক অনুরাগ চৌধুরী শনিবার এমনই নির্দেশিকা জারি করে বলেছেন, আত্মরক্ষার জন্য নিজের কাছে বন্দুক রাখতে গেলে এবার থেকে কোনও ব্যক্তিগত তথ্য সরকারের ঘরে জমা দেওয়ার দরকার নেই। বরং খুশি মনে গরুদের কম্বল দান করলেই হবে। গোশালায় ১০টা কম্বল দান করলেই বন্দুকের লাইসেন্স পেতে আর কোনও অসুবিধাই হবে না আবেদনকারীর।

দেশে যে ভাবে নৈরাজ্য বাড়ছে, তাতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ছাড়পত্র যদি এমনভাবে মেলে তাহলে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে না কি? স্বভাবতই জেলাশাসকের নির্দেশিকার পরে এমন অনেক প্রশ্ন উঠেছে। তাতে অবশ্য নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি অনুরাগ চৌধুরী। তাঁর পাল্টা যুক্তি, গোশালায় কম্বল দান মানে প্রাণীদের প্রতি যত্নবান হওয়া। এই পদ্ধতি চালু হলে পরিবেশ সচেতনতা আরও বাড়বে। এমন ব্যতিক্রমী ভাবনায় সমাজের একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তনও হবে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ কি রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে? এই সংঘাতের শেষ কোথায়? 

এর আগেও অবশ্য এমন অদ্ভুত নীতি চালু করতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জেলাশাসক। সেবারও এমন নির্দেশিকা জারি করে তিনি বলেছিলেন, গাছ লাগিয়ে তাদের যত্ন করতে পারলেই বন্দুক রাখার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। প্রবল বিতর্কের মুখে সেই নির্দেশিকা ধোপে টেকেনি।

বেওয়ারিশ গরুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ পদক্ষেপ করতে চলেছে যোগী সরকার। উত্তরপ্রদেশের বড়াবাঁকি ও মহারাজগঞ্জ এলাকায় পর্যটকদের জন্য ‘গরু সাফারি’ চালু করার ভাবনাও রয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের। তবে গরুদের নিয়ে এ ধরনের কাজকর্ম উত্তরপ্রদেশে নতুন নয়। কিছু দিন আগেই শীতে গরুদের কষ্ট হতে পারে বলে ভেবে তাদের জন্য শীতবস্ত্র বানানোর ব্যবস্থা করেছে যোগী সরকার। তার আগে অগস্ট মাসে ‘মুখ্যমন্ত্রী নিরশ্রিত বেসাহারা গোবংশ সাহাবিতা যোজনা’ চালু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এই প্রকল্পে গরুর জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা করে অনুদান চাওয়া হয়েছে।

Share.

Comments are closed.