‘অমানবিক অত্যাচার, জেলেই তো কতবার মরেছি’, রাষ্ট্রপতির কাছে এবার প্রাণভিক্ষার আর্জি আর এক আসামির

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও ফাঁসির রদের আর্জি, কখনও রায় সংশোধনের দাবি জানিয়ে কিউরেটিভ পিটিশন বা কখনও জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ চাপানো—ফাঁসির দিন পিছিয়ে নিয়ে যেতে এখনও মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে নির্ভয়ার চার দোষী। আর দু’দিন পরেই তিহাড়ের দু’নম্বর সেলে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে চার আসামি মুকেশ সিং, পবন কুমার গুপ্ত, অক্ষয় ঠাকুর ও বিনয় শর্মাকে। তার আগে সুপ্রিম কোর্টে ফের কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করেছে অক্ষয়। আজ, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছে দোষী বিনয় শর্মা।

জেলের ভিতরে দিনের পর দিন যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল বলে আগেই দাবি করেছে আসামি মুকেশ সিং। তার কৌঁসুলি অঞ্জনা প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, তার মক্কেলকে ধর্ষণ করা হয়েছে জেলের ভিতরে। আর এর জন্য দায়ী নাকি জেল কর্তৃপক্ষই। এবার প্রায় একই দাবি করলেন বিনয়, পবন ও অক্ষয়ের আইনজীবী এপি সিং। রাষ্ট্রপতির কাছে আর্জি জানিয়ে বিনয়ের আইনজীবী বলেছেন, “আমার তিন মক্কেলকেই জেলের ভিতরে চূড়ান্ত অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রোজই মরছে তারা, আর মৃত্যুদণ্ডের কী দরকার!”

বিনয়ের বয়ানে পিটিশনে তার কৌঁসুলি লিখেছেন, “আমি মনে করি এই প্রাণভিক্ষার আর্জি আপনি শুনবেন। কারণ কেউ আমার কথা শুনতে চাইছে না। ২০১২ সালের সেই ভয়ঙ্কর রাত আমার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এরপরেও জেলের ভিতর অত্যাচার সয়েছি। এখন আপনিই ঠিক করুন মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র সাজা কিনা।”

আরও পড়ুন: নির্ভয়ার ধর্ষকই নাকি ধর্ষিত হয়েছে জেলে, সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ মুকেশের আইনজীবীর

ফাঁসির সাজা মকুবের জন্য সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করেছে অক্ষয় ঠাকুর। গত মাসেই ফাঁসির সাজা মুকুবের জন্য হিন্দু দেবদেবী ও দিল্লির দূষণের কারণ দেখিয়ে আবেদন করেছিল অক্ষয়। সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ মুকেশের ক্ষমাভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিলে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিল আসামি মুকেশ সিং। সেই আর্জিও খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। মুকেশের আইনজীবী অঞ্জনা প্রকাশের অভিয়োগ ছিল, ২০১৩ সালের মার্চে রাম সিং জেলের ভিতর আত্মহত্যা করেনি। তাঁকে খুন করা হয়েছিল। এরপরেও লাগাতার শারীরিক নির্যাতন চলে চার দোষীর উপরেই। তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনজীবীর অভিযোগ, মুকেশকে দিনের পর দিন অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি অক্ষয় ঠাকুরের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক তৈরি করতে তাকে বাধ্যও করে জেল কর্তৃপক্ষ।

তিহাড় সূত্রে খবর, শেষ মুহূর্তে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচতে সব রকমের চেষ্টা চালাচ্ছে চার দোষী। তাদের আইনজীবীদের দিয়ে বারবার সুপ্রিম কোর্টে যতরকমভাবে সম্ভব আবেদন করছে। তাদের আবেদন হয়তো টিকছে না, কিন্তু আইনি পদ্ধতিতে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে তারা। বারবার ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়ায় দিল্লি সরকার ও তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলেছেন নির্ভয়ার মা। তাঁর অভিযোগ, ঠিকমতো সব কিছু হলে অনেক আগে দোষীদের ফাঁসি হয়ে যেত। সরকারের কর্তব্যে গাফিলতির ফলেই তারা এখনও বেঁচে আছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More