দিল্লিতে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীরাই বেশি সংক্রামিত! শরীরে মিলেছে করোনার অ্যান্টিবডি

রক্তে আইজিজি অ্যান্টিবডি দেখে বলে দেওয়া যায় সেই ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা। অ্যান্টিবডি টেস্ট করার এই প্রক্রিয়াকেই বলে সেরো সার্ভে। এই পরীক্ষা করলে বোঝা যায় করোনা সংক্রমণ কতজনের মধ্যে এবং কী পরিমাণে ছড়িয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির সেরো সার্ভের রিপোর্টে ফের নতুন তথ্য পাওয়া গেল। দু’দিন আগেই অ্যান্টিবডি টেস্টের রিপার্ট সামনে এনে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) জানিয়েছিল, পুরুষদের থেকে মহিলাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার বেশি। কারণ মহিলাদের শরীরেই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বেশি পাওয়া গেছে। এদিনের রিপোর্টে এনসিডিসি জানিয়েছে, কমবয়সীদের মধ্যেই ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। সেরো সার্ভেতে, ৫ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সীদের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি বেশি পাওয়া গেছে।

রক্তে আইজিজি অ্যান্টিবডি দেখে বলে দেওয়া যায় সেই ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা। অ্যান্টিবডি টেস্ট করার এই প্রক্রিয়াকেই বলে সেরো সার্ভে। এই পরীক্ষা করলে বোঝা যায় করোনা সংক্রমণ কতজনের মধ্যে এবং কী পরিমাণে ছড়িয়েছে। গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে কিনা সেটাও ধরা যায় সেরো সার্ভেতেই। দিল্লিতে গত ২৭ জুন থেকে এই সেরো সার্ভে চালাচ্ছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল।

এনসিডিসি তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করেছে, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩৪.৭ শতাংশের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। ১৮ বছর থেকে ৪৯ বছ বয়সী প্রায় ২৮ শতাংশ রোগীর শরীরে পাওয়া গেছে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি। এদের অনেকেই আবার উপসর্গহীন অর্থাৎ শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ আছে অথচ বাইরে রোগের কোনও লক্ষণ নেই। ৫০ বছরের উপরে ৩১.২ শতাংশ রোগীর রক্তে মিলেছে করোনার অ্যান্টিবডি।

স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, স্কুল-কলেজ দীর্ঘ সময় ধরেই বন্ধ। সামাজিক মেলামেশাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কম বয়সীদের মধ্যে কীভাবে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে সেটাই চিন্তার বিষয়। যাদের শরীরে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে তাদের অনেকেরই রোগের লক্ষণ খুব কম বা নেই। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, তারা অজান্তেই সংক্রামিত হয়েছে, আবার রোগ সারিয়েও উঠেছে। অনুমান করা হচ্ছে, উপসর্গহীন রোগীদের সংস্পর্শ থেকেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। বিশেষত পাঁচ বছর বা তার উপরের শিশুরা বাবা-মা বা পরিবারের কারও থেকে সংক্রামিত হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

প্রথম দফায় সেরো টেস্টের রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল দিল্লিতে মাত্র ২৩.৪৮% শতাংশ মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় দফার রিপোর্টে কিছুটা আশা জাগে। দেখা যায় দিল্লির জনসংখ্যার ২৯.১ শতাংশ মানুষের রক্তে অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাসিন্দার শরীরেই করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি মিলেছে। অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষের করোনা হয়ে সেরেও গিয়েছে।

সেরো সার্ভের রিপোর্টে দেখা গেছে ৩২.২ শতাংশ মহিলার শরীরে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ২৮.৩ শতাংশ পুরুষের শরীরে মিলেছে করোনার অ্যান্টিবডি। সেদিক থেকে মহিলাদের শরীরে ভাইরাসের মোকাবিলায় জোরালো রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠছে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেছেন, যে মহিলাদের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি বেশি, তাঁদের অনেকে বুঝতেও পারেননি যে তাঁরা সংক্রামিত হয়েছিলেন। অনেকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের বাহ্যিক লক্ষণ বা উপসর্গও দেখা যায়নি।

কমবয়সীরা কেন এবং কীভাবে আক্রান্ত হচ্ছে সে নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রকও। দিল্লির ডিরেক্টর জেনারেল হেলথ সার্ভিস (ডিজিএইচএস) নূতন মুনদেজা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সেরো সার্ভের রিপোর্টে এই তথ্য পাওয়া গেছে। হতে পারে কোনও একটি ক্লাস্টারের মধ্যেই কমবয়সীরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের অ্যান্টিবডি টেস্ট করা দরকার। তাহলেই এর কারণ বোঝা যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More