বিদ্যুৎ চুরির সাজা, ৫০টি গাছ লাগানোর নির্দেশ আদালতের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : অবৈধভাবে দোকানে নেওয়া হচ্ছিল বিদ্যুৎ। ইলেকট্রিক পোস্ট থেকে সরাসরি তার লাগিয়ে নেওয়া হয়েছিল দোকানে। এই বিদ্যুৎ চুরি ধরা পড়ায় দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে বিদ্যুৎ দফতর। কিন্তু অভিযুক্তকে অভিনব সাজা দিলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি। তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৫০টি গাছ লাগানোর। সেটি করলেই তাঁর উপর থেকে তুলে নেওয়া হবে মামলা।

    শনিবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ওই ব্যক্তিকে নির্দেশ দেন, এক মাসের মধ্যে দিল্লির বন্দেমাতরম মার্গের বুদ্ধ জয়ন্তি পার্কে যে রিজার্ভ ফরেস্ট রয়েছে সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে হবে তাঁকে। বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবা বলেন, “যে গাছগুলি পোঁতা হবে সেগুলি যেন বিভিন্ন ধরণের হয়। অন্তত সাড়ে তিন বছর বয়সের ও ছ’ফুট উচ্চতাযুক্ত গাছ লাগাতে হবে তাঁকে। অবশ্য কী গাছ লাগানো হবে, তা নির্ভর করবে সেখানকার মাটির উপর। বন দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা পুরো ব্যাপারটা তদারক করবেন।”

    বিচারপতি আরও জানান, গাছ লাগানো হয়ে গেলে সেই গাছের ছবি তুলে ওই ব্যক্তি ও বন দফতরকে দুটি আলাদা অ্যাফিডেভিট জমা দিতে হবে আদালতে। ছবি গুলি অবশ্যই উপর থেকে তুলতে হবে। শুধু তাই নয়, বন দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এক আধিকারিককে নিযুক্ত করার জন্য। সেই আধিকারিক ছ’সপ্তাহ পর গাছগুলি কীরকম রয়েছে, তার রিপোর্ট জমা দেবেন আদালতে।

    কয়েকদিন আগে দিল্লির বিদ্যুৎ দফতর আদালতে অভিযোগ করে, ওই ব্যক্তি নিজের দোকানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিচ্ছেন। বিদ্যুতের বিল বাবদ তাঁর ১৮ হাজার ২৬৭ টাকা বাকি রয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ব্যক্তি বলেন, ওই দোকান তিনি চালান না। দোকানটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি ভাড়া নিয়েছেন, তিনি ঠিকমতো টাকা না নেওয়ায় তিনি বিদ্যুৎ কেটে দিয়ে গিয়েছিলেন। তারপরেই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছেন তাঁর ভাড়াটে, তিনি নন।

    এরপর ওই ভাড়াটে বিদ্যুৎ চুরির কথা স্বীকার করেন। তিনি টাকা মিটিয়ে দিতেও রাজি হন। তবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে দোকানের মালিক সব জানতেন। তারপরেই মালিককেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু তাঁকে অন্যরকমের সাজা ঘোষণা করেন বিচারপতি। তিনি জানান, এই সাজায় একদিকে যেমন জেল খাটার হাত থেকে ওই ব্যক্তি বেঁচে যাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনই পরিবেশেরও উন্নতি হচ্ছে।

    দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির এই অভিনব সাজার প্রশংসা করছেন সবাই। সবার বক্তব্য, গুরুতর অপরাধ না করলে, তাকে এই ধরণের সাজা দিলে সেটা আখেরে পরিবেশের জন্যও ভালো।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More