করোনা সারিয়ে ছ’বার প্লাজমা দিলেন যুবক, প্রাণ বাঁচল ১৮ জন কোভিড রোগীর

ইনস্টিটিউট অব লিভার ও বিলিয়ারি সায়েন্স (ILBS)-এর ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের প্রধান ডক্টর মীনু বাজপেই বলেছেন, খুবই আশ্চর্যজনক ঘটনা যে এপ্রিলের পর থেকে আজ অবধি তাবরেজের রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং, বেড়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়েছিলেন এপ্রিলেই। তারপর থেকে এখনও অবধি মোট ছ’বার প্লাজমা দান করে ফেলেছেন ৩৭ বছরের যুবক। সপ্তমবার প্লাজমা দানের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। ডাক্তাররা বলেছেন, এই যুবকের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। গত তিনমাসেও অ্যান্টিবডির পরিমাণ কমেনি।

দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরি এলাকার বাসিন্দা যুবকের নাম তাবরেজ খান। বলেছেন, “যতদিন সম্ভব প্লাজমা দিয়ে যাব। অনেক সঙ্কটাপন্ন রোগীর প্রাণ বাঁচবে। “

পুণে আইসারের ইমিউনোলজিস্ট সত্যজিৎ রথ বলেছেন, রক্ত থেকে মাত্র ১০% প্লাজমা বা রক্তরস নেওয়া হয়। কিছুদিন পরেই প্লাজমায় ফের অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়ে যায়। তাই অনেকবারই প্লাজমা দেওয়া সম্ভব। করোনা সারিয়ে উঠেছেন এমন রোগী যদি স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে প্লাজমা দেন, তাহলে অনেকের প্রাণ বাঁচে।

বিশ্বজুড়েই গবেষকরা দাবি করেছেন, করোনা সারিয়ে সুস্থ হলেও রক্তে অ্যান্টিবডি তিনমাসের বেশি টিকছে না। ঝপ করে অ্যান্টিবডির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। যার থেকে বোঝা গেছে, করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় মানুষের শরীরে এখনও যথেষ্ট পরিমাণে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠেনি। এই প্রসঙ্গেই ইনস্টিটিউট অব লিভার ও বিলিয়ারি সায়েন্স (ILBS)-এর ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের প্রধান ডক্টর মীনু বাজপেই বলেছেন, খুবই আশ্চর্যজনক ঘটনা যে এপ্রিলের পর থেকে আজ অবধি তাবরেজের রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং, বেড়েছে। যুবকের অ্যান্টিবডি টেস্ট করেও দেখা গেছে, করোনা সারিয়ে ওঠার পর থেকে তার রক্তরস বা প্লাজমায় তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির ঘনত্ব বেশি। তাই ৬ বার প্লাজমা দান করতে পেরেছেন তিনি।

১৮ এপ্রিল প্রথম প্লাজমা দান করেছিলেন তাবরেজ। প্লাজমায় কতটা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে সেই পরিমাণের উপর ভিত্তি করে একজনের প্লাজমা থেকে মোটামুটি দু’জনের থেরাপি করা সম্ভব। কিন্তু তাবরেজের প্লাজমায় এতটাই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে যে প্রতিবারে তিনজন করে রোগীর থেরাপি করা সম্ভব হয়েছে, জানিয়েছেন ডাক্তাররা। আক্রান্তেরা সুস্থ হয়ে ওঠার পথে। দ্বিতীয়বার ৫ মে, এরপরে ১৫ ও ২৪ মে প্লাজমা দেন তাবরেজ। পঞ্চমবার ৭ জুন ও ষষ্ঠবার ২০ জুন প্লাজমা দিয়েছিলেন তিনি।

যুবকের কথায়, “করোনার উপসর্গ নিয়ে লোক নায়ক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। প্রচণ্ড জ্বর, কাশি ছিল। শ্বাসের সমস্যাও হচ্ছিল। ভালরকম উপসর্গই দেখা গিয়েছিল আমার। সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা হচ্ছিল। কিন্তু ডাক্তারদের চিকিৎসায় সেরে উঠি। তারপরেই ঠিক করি প্লাজমা দিয়ে আমার মতো রোগীদের প্রাণ বাঁচাব। ৬ বার প্লাজমা দিয়েছি। ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে আরও একবার প্লাজমা দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি।”

করোনা চিকিৎসায় কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপিতে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরল, পাঞ্জাব, অসম সহ একাধিক রাজ্যে প্লাজমা থেরাপি করা হচ্ছে। প্লাজমা এক্সচেঞ্জের থেকেও কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি করোনা চিকিৎসায় বেশি উপযোগী বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্লাজমা এক্সচেঞ্জ পদ্ধতিতে রোগীর শরীরের পুরো রক্তরস বা প্লাজমাই প্রতিস্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ। কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপিতে শুধুমাত্র দাতার থেকে নেওয়া প্লাজমাই ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় রোগীর শরীরে। এই থেরাপির উদ্দেশ্য হল, সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন যিনি, তাঁর রক্তরসে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে সেই অ্যান্টিবডি প্লাজমা ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে রোগীর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া। ডাক্তাররা দাবি করেছেন, করোনা চিকিৎসায় এই থেরাপি বিশেষ কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন যে ব্যক্তি তাঁর শরীরে তৈরি হওয়া ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি আক্রান্তের শরীরে গিয়েও একইভাবে কাজ করেছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More