বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

Breaking: ঘুষ মামলা বাতিল করতে রাকেশ আস্থানার আর্জি খারিজ দিল্লি হাইকোর্টের, বাধা নেই গ্রেফতারিতেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সিবি আইয়ের স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষের মামলা খারিজ করা হোক। সিবিআইয়ের ডিরেক্টর অলোক বর্মা অসাধু উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু শুক্রবার সেই আবেদন বাতিল করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

এতদিন আস্থানা যে সংস্থার শীর্ষ পদে ছিলেন, সেই সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাবে। তাঁকে গ্রেফতারের ওপরে আগে আদালত যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তাও তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তদন্তের কোনও পর্যায়ে গোয়েন্দারা যদি মনে করেন, তাঁকে গ্রেফতারও করতে পারেন। একইসঙ্গে হাইকোর্ট সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে হবে। তারপরে দাখিল করতে হবে চার্জশিট।

বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এক কমিটি সিবিআই প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে অলোক বর্মাকে। এবার যিনি তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন, সেই আস্থানাও পড়লেন বিপাকে। আস্থানা মোদীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর হাইকোর্টে ওই মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি নাজমি ওয়াজিরি সেদিন আস্থানা, প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর অলোক বর্মা, পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট দেবেন্দর কুমার এবং সিবিআই কৌঁসুলির বক্তব্য শোনেন। আস্থানা, কুমার এবং দালাল বলে অভিযুক্ত মনোজ প্রসাদ আবেদন জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ করে দেওয়া হোক।

হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী সানা সতীশ বাবু অভিযোগ করেছিলেন, মাংস রফতানির একটি মামলায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আস্থানা এবং কুমার ঘুষ চেয়েছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আস্থানাদের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়। মাংস রফতানির যে মামলায় আস্থানার বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাতে তিনিই ছিলেন প্রধান তদন্তকারী অফিসার।

গত অগাস্টে মন্ত্রিসভার সচিবের কাছে আস্থানা অভিযোগ করেন, সানা তাঁকে নয়, তাঁর বস বর্মাকেই ২ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। ১৫ অক্টোবর আস্থানার বিরুদ্ধে এফআইআর করে সিবিআই। তাঁকে এবং বর্মাকে ছুটিতে পাঠানো হয় ২৩ অক্টোবর।

আস্থানার কৌঁসুলি অমরেন্দ্র শরণ হাইকোর্টে বলেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে দুর্নীতি দমন আইনের ১৭ এ ধারা অনুযায়ী অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে সি বি আইয়ের কৌঁসুলি বিক্রমজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওই অনুমোদনের দরকার ছিল না।

সুপ্রিম কোর্ট পুরনো পদে ফিরিয়ে দেওয়ার পরে দু’দিন ধরে বর্মা এমন কয়েকজন অফিসারের ট্রান্সফার নাকচ করেছেন, যাঁরা আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছিলেন। অবশ্য তাঁরাই ফের ওই তদন্ত করবেন কিনা জানা যায়নি।

Shares

Comments are closed.