মধ্যপ্রদেশে ‘ভুয়ো’ মনরেগা কার্ডে দীপিকা পাড়ুকোন-সহ একাধিক বলি তারকার ছবি, হতবাক আধিকারিকরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকের কার্ডে জ্বলজ্বল করছে বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের ছবি। শুধু দীপিকা নন, বলিউডের একাধিক নায়ক-নায়িকার ছবি দেখা যাচ্ছে এই সব কার্ডে। অন্তত ১০-১১টা এই ধরনের মনরেগা (মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট) কার্ডের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। আর তাতেই হতবাক সরকারি আধিকারিকরা। এইসব ভুয়ো কার্ড দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

মধ্যপ্রদেশের খারগোন জেলার একাধিক বাসিন্দার নামে মনরেগা কার্ডে দেখা যাচ্ছে বলি তারকাদের ছবি। যেমনটা সোনু শান্তিলালের স্ত্রীর নামে যে জব কার্ড রয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে দীপিকার ছবি। এলাকার একটি ড্রেন তৈরির কাজের জন্য টাকা পাচ্ছেন তিনি। শুধু সোনু শান্তিলাল বা মনোজ দুবে নন, এরকম প্রায় ১০ থেকে ১২ জন রয়েছেন যাঁদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছে। ঝির্নিয়া পঞ্চায়েতের পিপারখেড়া নাকা গ্রাম থেকে এই কার্ড দেখিয়ে প্রতিদিন টাকাও তোলা হচ্ছে।

এই খবর সামনে আসতেই স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যে কাজ হয়নি সেই কাজের জন্য টাকা দেওয়ার নাম করে এই সব কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। যেমন সোনু শান্তিলালের স্ত্রীকে যে ড্রেন তৈরির কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে সেই ধরনের কোনও কাজ হয়নি। এই সব কার্ড দেখিয়ে দিনের পর দিন লাখ লাখ টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। যেমন পুকুর ও খাল খননের নামে প্রতি মাসে মনোজ দুবের নামে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে।

অবশ্য এইসব কার্ডের বিষয়ে সোনু শান্তিলাল বা মনোজ দুবেরা কিছু জানেন না বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। কীভাবে এই কার্ড তৈরি হল সেটাও তাঁরা জানেন না। যেমন মনোজ দুবের মনরেগা কার্ডের কোনও প্রয়োজনই নেই। তাঁর ৫০ একর জমি রয়েছে। তিনি কোনও দিন কার্ডের জন্য আবেদনও করেননি বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সোনু শান্তিলাল জানিয়েছেন, “আমি জানি না কবে এই কার্ড তৈরি হল। ওরা আমার স্ত্রীর জায়গায় দীপিকা পাড়ুকোনের ছবি বসিয়েছে।” এই কাজের পিছনে পঞ্চায়েত সেক্রেটারি ও এমপ্লয়মেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট যুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই ঘটনার পরে জেলা পঞ্চায়েতের সিইও একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কোথায় ও কী ভাবে এই কার্ডগুলি তৈরি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিইও গৌরব বনশল জানিয়েছেন, “সেলিব্রিটিদের ছবি লাগানো ১১টি জব কার্ডের খবর আমি পেয়েছি। গত কয়েক দিনে অনেক টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখব এই কার্ডগুলো কোথায় তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে এই ছবিগুলো কী ভাবে লাগানো হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মনরেগা প্রকল্পের আওতায় এই গ্রাম পঞ্চায়েতকেই ১০০ শতাংশ কাজ হওয়ার জন্য কিছুদিন আগে প্রশংসা করা হয়েছিল। এবার জালিয়াতির ঘটনা দেখা গেল সেখানেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More