সোমবার, নভেম্বর ১৮

উঁচু জাতের মানা, আবর্জনা-নালার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যেতে হল দলিতের মৃতদেহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের সামনে এল শ্রেণিবৈষম্যের নগ্ন ছবি। উঁচু জাতের মানুষের বসবাসের এলাকা ব্যবহার করা যাবে না। তাই দলিত সম্প্রদায়ের মৃতদেহকে জঞ্জাল ফেলার জায়গা, নালার মধ্যে দিয়ে শ্মশানে নিয়ে যেতে হল। এই ঘটনা সামনে আসায় শুরু হয়েছে সমালোচনা।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই ঘটনা সামনে আসে। সেখানে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ মৃতদেহ নিয়ে আবর্জনা, নালার মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। তারপরে জানা যায় এই ঘটনা তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর জেলার বিধি গ্রামের। সেখানে প্রায় ১৫০০ ঘর দলিতের বাস। কিন্তু তাঁদের গ্রামের সব জায়গায় যাওয়ার অধিকার নেই। বিশেষ করে গ্রামের যে এলাকায় উঁচু জাতের মানুষ থাকেন সেখানে তাঁদের যাওয়া মানা। তাই কারও মৃত্যু হলেও সেই রাস্তা ব্যবহার করতে পারেন না তাঁরা। ঘুরপথে শ্মশানে যেতে হয় তাঁদের।

সেই গ্রামেরই এক বাসিন্দা বিনোদ জানিয়েছেন, “আমরা এর আগে অনেকবার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি যাতে আমাদের একটা আলাদা রাস্তা করে দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি। উঁচু জাতের লোকেরা যেখানে থাকেন সেখানে ভালো রাস্তাঘাট আছে। তাঁরা সহজেই শ্মাশানে চলে যান। কিন্তু আমাদের কাছে সেটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষাকালে তো আরও সমস্যা হয়। তখন আরও বেশি ঘুরতে হয় আমাদের। এমনকি শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না আমাদের।”

রাজা নামের আর এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “আধ কিলোমিটারের পথ যেতে আমাদের আড়াই কলোমিটার ঘুরতে হয়। আমরা শুধুমাত্র একটা ভালো রাস্তা ও শব দাহ করার জন্য বৈদ্যুতিক চুল্লি চাই।”

এই বছরই অগস্ট মাসে এই ধরনেরই আরও একটি ঘটনা সামনে আসে। তামিলিনাড়ুর ভেলোরে এক দলিতের মৃত্যু হলে উঁচু জাতের বাসিন্দারা তাঁদের জমির মধ্যে দিয়ে শবযাত্রা যেতে দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে ২০ ফুট উঁচু একটি ব্রিজ থেকে মৃতদেহ জলে ফেলে দিতে বাধ্য হন তাঁরা।

এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় শুরু হয়েছে সমালোচনা। এই একুশ শতকেও জাত-পাত নিয়ে মানুষের এই ভেদ মেনে নিতে পারছেন না কেউ। তাঁরা সরকার ও প্রশাসনকে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প

Comments are closed.