বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

ভোটের মুখে দলিত নিগ্রহের অভিযোগ মোদীর গুজরাটে, দলিত ছাত্রকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একে হোলির মরসুম, তায়ে নির্বাচন সামনে। এমন পরিস্থিতিতে ফের দলিত নিগ্রহের ঘটনা ঘটল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটে। এক দলিত ছাত্রকে গাছে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হলো। তাকে বোর্ড পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হলো না। বাকি পরীক্ষাগুলোতে বসার চেষ্টা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হলো। অভিযোগ উঠল এক উচ্চবর্ণের কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ওই কিশোরের, তাই ‘শাস্তি’ দিতেই তাকে মারধর করা হয়েছে। গত সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বডগাম বিধানসভা কেন্দ্রের মেহসানা শহরে। বুধবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত কাওকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

মেহসানা শহরের বাসিন্দা সতেরোর এই কিশোরের নাম মিতকুমার নরেশভাই চাবড়া।  সোমবার উচ্চমাধ্যমিকের ইংরেজি পরীক্ষা ছিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রটির। তার পরীক্ষার সিট পড়েছিল ধিনোজ গ্রামের সর্বজনিক বিদ্যা মন্দির হাইস্কুলে। কিশোর জানিয়েছে, সোমবার দুপুরের দিকে স্কুলে ঢোকার রাস্তায় তার পথ আটকায় রমেশ পটেল নামে এক যুবক। এই রমেশকে আগে থেকেই চিনতো সে।

ছাত্রের কথায়, “বেলা ১টার সময় মেহসানা থেকে ধিনোজ গ্রামে পৌঁছই। পরীক্ষা শুরু আগে স্কুলের বাইরেই আমরা অপেক্ষা করছিলাম। ওই সময়েই রমেশ এসে আমাকে ওর সঙ্গে একটু দূরে যেতে বলে। রমেশের সঙ্গে গিয়ে দেখি সেখানে মোটরবাইকে অপেক্ষা করছে আরও একজন। রা দু’জনে আমাকে জোর করে বাইকে তুলে গরাদ গ্রামে নিয়ে যায়।” কিশোর মিতকুমারের কথায়, প্রথমে একটা ফাঁকা জমিতে নিয়ে গিয়ে তাকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছিল দু’জনে। পরে একটা গাছের সঙ্গে বেঁধে শুরু হয় মার। “আমাকে বেধড়ক মারছিল ওরা। গা, হাত-পা দিয়ে রক্ত বার হচ্ছিল। ওদের দাবি ছিল পড়াশোনা ছেড়ে আমি শ্রমিকের কাজ করি।”

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দু’জনের মধ্যে রমেশ নামক ছেলেটিকে চিনতে পেরেছে কিশোর। রমেশ সরকারি বাসের কন্ডাকটর। অপর জন বহিরাগত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩,৩৪১,৫০৪,৫০৬ (২), ১১৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরের মা তরুণা জানিয়েছেন, গ্রামে রটে গেছে এক উচ্চবর্ণের কিশোরীর সঙ্গে নাকি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে মিতকুমারের। তার পর থেকেই নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাকে।

অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নির্দল বিধায়ক জিগনেস মেবানি। তিনি বলেছেন, “ভোটের আগে দলিতদের রক্তে হোলি খেলা হচ্ছে গুজরাটে।” বিধায়কের কথায়, কোনও ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকতেই পারে ওই কিশোরীর, তার মানে এই নয় যে তাকে নির্যাতন করা হবে। এই ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে গুজরাটে দলিতরা কতটা অসহায়।

কখনও গুজরাত, কখনও রাজস্থান,উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র বা দিল্লি– দলিতদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বারংবার ঘটেছে। কখনও মারধর, কখনও জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।  অনেকক্ষেত্রেই নির্যাতনের মাত্রা সমস্ত সীমা পরিসীমাকে অতিক্রম করে গেছে। দেশে দলিতদের নিরাপত্তা কতটা, বার বার উঠেছে সেই প্রশ্ন। গুজরাটের সাম্প্রতিকতম ঘটনা ফের সেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল গোটা দেশকে।

 

Comments are closed.