সোমবার, আগস্ট ১৯

চোর সন্দেহে দলিত যুবককে বিবস্ত্র করে বেদম মার, পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যোগী রাজ্যে

  • 63
  •  
  •  
    63
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের পর এ বার বারাবাঁকি। ফের একবার দলিত যুবককে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হলো। পুলিশ জানিয়েছে, বছর আঠাশের ওই যুবককে প্রথমে জামা কাপড় খুলিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পেট্রল ঢেলে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা চলছে লখনৌয়ের হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যুবকের শরীরের ৩০ শতাংশেরও বেশি আগুনে ঝলসে গেছে।

বারাবাঁকিতে এই ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সুজিত কুমার নামে ওই যুবক তাঁর শশুড়বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। রঘুপুরা গ্রামের কাছে কুকুরের তাড়া খেয়ে একটি বাড়ির ছাউনির নীচে আশ্রয় নেন। রাতের বেলা অচেনা একজনকে এলাকায় দেখে বেরিয়ে আসে স্থানীয়রা। সুজিতকে জেরা শুরু করে তারা। তাদের হই হট্টোগোলে গ্রামের বাকি লোকজনও বেরিয়ে আসে। সকলে মিলে বেধড়ক মারতে শুরু করে সুজিতকে।

গ্রামবাসীদের ওই যুবক জানান, স্ত্রীকে আনতে তিনি শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফিরছেন। কিন্তু সুজিতের কথা শুনতে রাজি ছিল না কেউ। বরং গ্রামবাসীরা তাঁকে চোর বদনাম দিয়ে মারধর শুরু করে। পরে জামা কাপড় খুলিয়ে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ইতিমধ্যেই রঘুপুরা গ্রামে গোলমালের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অর্ধদগ্ধ অবস্থায় সুজিতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

চিফ মেডিক্যাল সুপার (সিভিল হাসপাতাল) আশুতোষ দুবে জানিয়েছেন, যুবকের দুটো পা ঝলসে গেছে। শরীরের অন্যান্য অংশও পুড়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বারাবাঁকি পুলিশ সুপার আকাশ তোমার জানিয়েছেন, তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গণপিটুনি ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শরণ কুমার, উমেশ ও রাম লখন নামে তিন স্থানীয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজ চলছে।

Comments are closed.