মঙ্গলবার, আগস্ট ২০

গুজরাটকে শঙ্কামুক্ত করে অভিমুখ বদলাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’, উপকূলবর্তী এলাকায় জারি থাকবে হাই অ্যালার্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’  জোরকদমে এগিয়ে আসছে বুধবার পর্যন্ত এমন খবরই ছিল। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে কড়া নজর রেখেছিল নৌসেনা, উপকূলরক্ষী বাহিনী থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। বুধবারের সকাল হতেই মিলল অন্য খবর। দিল্লির হাওয়া অফিস জানাল, গুজরাট উপকূল নয়, বরং গতিপথ বদলে ক্রমশ সমুদ্রের দিকে সরে যাচ্ছে ‘বায়ু।’ সেই সঙ্গে কমছে তার শক্তিও। ফলে স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা কম।

সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম ‘বায়ু’ ক্রমশই তার শক্তি হারিয়ে সাইক্লোনিক স্টর্মে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা। তবে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট থাকবে বলেই জানা গিয়েছে। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। সেই সঙ্গে থাকবে ঢেউয়ের দাপট। ঘূর্ণিঝড় অভিমুখ বদলালেও চূড়ান্ত সতর্কতা জারি থাকবে সৌরাষ্ট্র, কচ্ছের পোরবন্দর এলাকায়। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

পূর্বাভাস ছিলই বৃহস্পতিবার ঘণ্টায় ১১০-১২০ কিলোমিটার বেগে গুজরাটে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’ । ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। মৌসম ভবন জানিয়েছিল, লক্ষদ্বীপের উপকূলে আমিনিদিবিতে তৈরি হয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। প্রতি মুহূর্তে শক্তি বাড়িয়ে সেটি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্মে পরিণত হয়েছে। এর জেরে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে গুজরাটে। ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’র ল্যান্ডফল মূলত ভেরাভল ও দিউয়ের কাছে। গুজরাটের সৌরাষ্ট্র, কচ্ছের পরবন্দর থেকে মাহুবা পর্যন্ত এলাকায় এই ঘূর্ণঝড়ের দাপট প্রবল হবে বলে জানিয়েছিলেন আবহবিদরা।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় বুধবার থেকেই বাতিল হয়েছে ৭০টি ট্রেন। আরও ২৮টি ট্রেনের যাত্রাপথে পরিবর্তন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ লক্ষ লোককে গুজরাত উপকূল থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১০ হাজার লোককে দিউ থেকেও নিয়ে যাওয়ায় হয়েছে অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং নিরাপদ স্থানে। মঙ্গলবার সন্ধে ৬টা থেকেই শুরু হয়েছে রেল পরিষেবার এই বাতিল প্রক্রিয়া।

সরকারি সূত্রে খবর, ঘূর্ণিঝড় তার অভিমুখ বদলালেও, সতর্ক রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (এনডিআরএফ)। উদ্ধার কাজ এবং ত্রান শিবিরের ব্যবস্থা যাতে ঠিক ভাবে সে জন্য এনডিআরএফ-এর ৫২টি দল এর মধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে গুজরাটে। প্রতি দলে ৪৫ জন করে কর্মী রয়েছেন।  উদ্ধারকাজের জন্য তৈরি রয়েছে বিশেষ নৌকা। রয়েছে গাছ কাটার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও টুইট করে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও সমগ্র পরিস্থিতির উপর নজদারি চালানো হচ্ছে।

Comments are closed.