শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

সবেধন নীলমণি কেরলেও ভুল খেলেছিল সিপিএম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের রাজ্যে প্রায় ধুয়ে গেল সিপিএম।

বাংলা, ত্রিপুরায় এখন আর সরকার নেই। সংগঠনেরও মাজা ভেঙে গিয়েছে। এই লোকসভায় তাই কেরল নিয়েই স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের বামকর্মীরা। পিনারাই বিজয়নের এলডিএফ সরকার রয়েছে দক্ষিণের এই রাজ্যে। তাই অনেকেরই আশা ছিল, ২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ১২-১৩টি আসন জিতবেন তাঁরা। কিন্তু কোথায় কী! সেই কেরলেও জুটল মাত্র একটি। আলাপ্পুঝায় ছাড়া বাকি সব আসনে জিতল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট।

কেরলে যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়েছে বামেরা, দক্ষিণের আর এক রাজ্য তামিলনাড়ুতে সেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই চারটি আসন জিতল লাল ঝাণ্ডা। দুটো সিপিএম এবং দুটি সিপিআই।

কিন্তু কেরলে এমন ফলের কারণ কী?

সিপিএমের কোনও নেতা এখনও মুখ না খুললেও, অনেকেই মনে করছেন শবরীমালা ইস্যুতে কেরল সিপিএমের কট্টরপন্থী অবস্থান প্রভাব ফেলেছে কেরলে। কম আন্দোলন হয়নি। পাহাড়চুড়োর মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছিল সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়ন এমনও বলেছিলেন যে, “ভোটে হারি হারব। কিন্তু কোনও কুপ্রথার সঙ্গে আপস করা হবে না।” পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই অবস্থান কাল হয়েছে সিপিএমের।

এমনিতে কেরলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমর্থন পাল্টানোর ট্রেন্ড রয়েছে। এই রাজ্যে শিক্ষিতের হারও যথেষ্ট। অনেকে মনে করছেন, হয়তো সাধারণ মানুষ বুঝেছেন, রাজ্য সরকারে যা কাজই করুক বামেরা, কিন্তু সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তাদের ভোট দিয়ে লাভ নেই। ভোটে জিতলে কী করবে তারা নিজেরাই জানে না।

বাংলা বা ত্রিপুরার মতো অবস্থা নয় কেরল সিপিএমের। বছর বছর পার্টি সদস্যপদ কমা বা গণসংগঠনগুলির মেরুদন্ড ভেঙে যাওয়ার ব্যাপার এখানে ঘটেনি। তাও কেন এমন হল তা নিয়ে মাথা চুলকোচ্ছেন নয়া দিল্লির এ কে গোপালন ভবনের নেতারা। আশার প্রদীপ হিসেবে একমাত্র কেরলই জ্বলেছিল সিপিএমের সামনে। কিন্তু সেটাও নিভে গেল দপ করে।

মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং রাজস্থানেও বেশ কিছু আসনে প্রার্থী দিয়েছিল সিপিএম। বড় বড় কৃষক আন্দোলনের ঢেউও তুলেছিল সারা ভারত কৃষকসভা। কিন্তু ভোটে তার প্রতিফলন পড়ল না। পশ্চিমভারতের এই রাজ্যগুলি থেকেও শূন্যই জুটল সীতারাম ইয়েচুরির দলের কপালে।

চারটি তামিলনাড়ু। একটি কেরল। টিম মোদীর দাপটের সামনে সারা দেশে টিমটিম করছে বামেরা।

Comments are closed.