করোনা রোগীকে বেধড়ক মারধর হাসপাতালের কর্মীদের, মৃত্যু যুবকের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ফের অমানবিক ঘটনা হাসপাতালে। ৩৮ বছরের এক করোনা আক্রান্ত রোগীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল হাসপাতালেরই কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই মারধরের কিছুক্ষণ পরেই ওই যুবক মারা যান বলে অভিযোগ। এমনকি যুবকের মৃত্যুর পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোভিড নিয়ম মানেনি বলে অভিযোগ করেছে যুবকের পরিবার। যুবকের মারধরের ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের রাজকোটের সিভিল হাসপাতালে। ৩৮ বছরের করোনা রোগী প্রভাকর পাতিলের মৃত্যু হয়েছে গত ১২ সেপ্টেম্বর। তাঁর ভাই বিলাস পাতিল এই মৃত্যুর জন্য সম্পূর্ণ দায় হাসপাতালের ঘাড়ে চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তাঁর দাদা। কিন্তু ১২ তারিখ হাসপাতালের কর্মীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। তারপরেই তাঁর দাদা মারা যান।

বিলাস আরও অভিযোগ করেছেন, দাদার মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। করোনা আক্রান্ত কেউ মারা গেলে যে নিয়ম মানা উচিত তার কিছুই মানা হয়নি। নির্দেশিকা অনুযায়ী দেহ সৎকার করা হয়নি বলেই অভিযোগ করেছেন তিনি।

সূত্রের খবর, কিডনির সমস্যা হওয়ার ১২ দিন আগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রভাকর পাতিলকে। কিডনিতে জল কমে গিয়েছিল তাঁর। সেখানে অস্ত্রোপচার করে কিডনি থেকে জল বের করা হয়। তার পরেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুরু হয় তাঁর। তারপরেই তাঁর করোনা পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি কোভিড পজিটিভ। তারপরেই গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজকটের সিভিল হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় তাঁকে।

সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক করোনা রোগীকে নার্সং স্টাফ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা মিলে বেধড়ক মারধর করছে। হাসপাতালের ভিতরেই এই মারধর হয়। পরে জানা যায়, ভিডিওটি সিভিল হাসপাতালের। ওই রোগীর নাম প্রভাকর পাতিল। এই মারধরের কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পিপিই কিট পরা এক নার্সিং স্টাফ ওই রোগীকে মাটিতে ফেলে তাঁর উপর চেপে বসেছে। অন্য আর একজনকে দেখা যায় রোগীকে চড় মেরে শান্ত থাকতে বলছে। একজন নিরাপত্তারক্ষীও ওই রোগীকে মারধর করে। কিন্তু এই ভিডিও কে তুলেছে সেটা জানা যায়নি।

অবশ্য ১৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই রোগী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাই যাতে তাঁর থেকে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায় সেইজন্য তাঁকে সামলাচ্ছিলেন হাসপাতালের কর্মীরা। তাঁকে মারধর করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষের দাবির বিরুদ্ধে অবশ্য রোগীর পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, একটি কারখানায় অপারেটরের কাজ করতেন প্রভাকর। তিনি মানসিকভাবে সুস্থ। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের অমানবিক আচরণ ও গাফিলতির ফলেই মৃত্যু হয়েছে প্রভাকরের। এই ঘটনায় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More