দেশে একদিনে কোভিড পজিটিভ ১৮ হাজারের বেশি, তবে সুস্থতার হার বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছেন ১৩ হাজার

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সকাল ৮টার বুলেটিনে দেখা গেল, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণ ১৮ হাজার ৫২২। দেশে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪০ জনে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি কিছুটা হলেও কমল। লাগাতার কয়েকদিন ঘরে প্রতিদিনে প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি সংক্রমণ ধরা পড়ছিল। আজ, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সকাল ৮টার বুলেটিনে দেখা গেল, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণ ১৮ হাজার ৫২২। দেশে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪০ জনে।

    গতকাল, সোমবার দেশে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৪৮ হাজারের কাছাকাছি। রেকর্ড ভেঙে গতকালই নতুন সংক্রমণ ২০ হাজারের কোঠায় পৌঁছেছিল। গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৪১৮ জনের। দেশে এখন করোনা সংক্রমণের কারণে মৃতের মোট সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৯৩।

    কোভিড সংক্রামিত ও মৃতের সংখ্যার নিরিখে এখনও শীর্ষেই মহারাষ্ট্র। আক্রান্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮৩। মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৬১০ জনের। মহারাষ্ট্রে কোভিড সংক্রমণের বেশিরভাগই মুম্বইতে। সেখানে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আজকের হিসেবে রাজধানীতে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৮৫ হাজার পেরিয়েছে। তবে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থও হয়েছেন ৫৬ হাজারের বেশি রোগী। দেশের প্রথম প্লাজমা ব্যাঙ্ক তৈরি হতে চলেছে দিল্লিতেই। গতকালই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গুজরাট ও তামিলনাড়ুতেও কোভিড সংক্রমণ চিন্তার কারণ। গুজরাটে আক্রান্ত ৩১ হাজার ৯৩৮ এবং তামিলনাড়ুতে ৮৬ হাজার ২২৪। সংক্রমণের নিরিখে দিল্লিকেও ছাপিয়ে গেছে তামিলনাড়ু।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সুস্থতার হারও বেড়েছে। দেশে এখন সুস্থতার হার ৫৮% এর বেশি। পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার জন। দেশে এখন সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮২১।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধন বলেছেন, গত দু’সপ্তাহে সুস্থতার হার একটু একটু করে বেড়েছে দেশে। মৃত্যুহারও কম ৩ শতাংশের কাছাকাছি। করোনায় ডাবলিং রেট অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময় ১৯ দিনে পৌঁছেছে। জুনের প্রথমে এই ডাবলিং রেট ছিল ১৫.৪ দিন। সেটা বেড়ে ১৭.৪ দিনে পৌঁছয় গত সপ্তাহেই। অর্থাৎ কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছতে ১৭ দিনের মতো সময় লাগছিল। এখন এই ডাবলিং রেট ১৯ দিনে পৌঁছেছে। গত ২৫ মার্চ লকডাউন শুরুর সময় এই ডাবলিং রেটই ছিল চিন্তার বিষয়। কেন্দ্রের হিসেবে সেই সময় তিন-চারদিনের মাথাতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছিল। ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধিও হচ্ছিল দ্রুত হারে। লকডাউনের কারণেই এই ডাবলিং রেট আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে।

    অন্যদিকে দেশের ‘এফেকটিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর’ বা ‘আর’ নম্বরেরও (R Value) বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই জানিয়েছে চেন্নাইয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিকাল সায়েন্স (আইএমএসসি)। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একমাসে আর নম্বর ১.২২ থেকে ১.১৩-তে নেমে এসেছিল। গত সপ্তাহে সামান্যই কমে ১.১২-তে পৌঁছয়। আর নম্বর হল এমন একট গাণিতিক হিসেব যার দ্বারা সংক্রমণের হার মাপা হয়। একজন করোনা রোগীর থেকে কতজন সংক্রামিত হচ্ছেন এবং সেই সংখ্যার হিসেবে সংক্রমণের হার কতটা বাড়ছে সেটা হিসেব করা হয় এই নম্বর দিয়ে। আর নম্বর কমলে দেশে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই মুহূর্তে দেশের আর নম্বর ১.১১। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জায়গাতেই নম্বরের মান থেমে গেলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা আড়াই লাখের কাছে গিয়ে পৌঁছবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More