রবিবার, অক্টোবর ২০

কাশ্মীর নিয়ে সেমসাইড গোল অধীরের, অস্বস্তিতে সনিয়া-রাহুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারই সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে। তা নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভার অধিবেশনে আলোচনা চলছিল। সেই বক্তৃতাতেই লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর বক্তৃতায় বেজায় অস্বস্তিতে পড়তে হল সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীকে।

এ দিনের বক্তৃতায় বহরমপুরের সাংসদ বলেন, কাশ্মীর কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। তাঁর যুক্তি ছিল, সেই ১৯৪৮ সাল থেকে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জ মনিটরিং করছে। এটা কি কখনও অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে? এ দিনের বক্তৃতায় পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান কী তা ব্যখ্যা করার দাবি তোলেন অধীর। তিনি বলেন, “১৯৯৪ সালে লোকসভায় প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সরকার আইনকে ছুড়ে ফেলেছে।” কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নয় এই মন্তব্যে বেজায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। দেখা যায় অধীর যখন এ কথা বলছেন, রাহুল গান্ধী মাথা চুলকোচ্ছেন।

এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অধীরকে বলেন, ‘‘সাধারণ বিবৃতি দেওয়া উচিত নয়। এটা দেশের বৃহত্তম পঞ্চায়েত। দয়া করে আমাদের বলুন কোন আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমি তার উত্তর দেব।” তখনই অধীর বলেন, ‘‘আমি মনে করি না আপনারা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কথা ভাবছেন। আপনারা সমস্ত আইন লঙ্ঘন করে একটি রাজ্যকে রাতারাতি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করছেন।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনি বলছেন এটা অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু এটা ১৯৪৮ সাল থেকে নজরে রেখেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। তাহলে এটা অভ্যন্তরীণ ব্যাপার কী করে হয়? আমরা সিমলা চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণায় সই করেছিলাম, সেটা কি অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল, নাকি দ্বিপাক্ষিক? জম্মু ও কাশ্মীর কি তাহলে অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে? আমরা জানতে চাই।”

অধীরের প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ চেঁচিয়ে বলেন, ‘‘আপনি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অখণ্ড অংশ মনে করেন না? কী বলছেন আপনি?” পাল্টা অধীরবাবু বলেন,  “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অখণ্ড অংশ। যখনই আমি জম্মু ও কাশ্মীর বলি তার মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরও পড়ে।”

পরে অধীর জানান, তাঁকে বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি কেবল মাত্র সরকারের ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। সরকার সেটাকেই ইস্যু করতে চাইছে। আপনারা যদি শোনেন আমি কী বলেছি তাহলে দেখবেন আমি পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম।”

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালেই কংগ্রেসের সংসদীয় দলের বৈঠকে দলের অবস্থান জানানো হয়। কিন্তু অধীর সেই অবস্থানকে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ায় অমিত শাহ সুযোগ পেয়ে যান কংগ্রেসকে আক্রমণ করার, এমনটাই মনে করছেন সনিয়া-রাহুলরা।

Comments are closed.