মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯

১৯৮৪ হুয়া তো হুয়া: শিখ-নিধন নিয়ে ভোট বাজারে বিজেপি-কংগ্রেসের তরজা অব্যাহত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের লোকসভার প্রচারে রাজীব গান্ধীর প্রসঙ্গ থেকে সরছেন না নরেন্দ্র মোদী। দিল্লি নির্বাচনের দু’দিন আগে প্রচারে গিয়ে ফের রাজীব গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে আনলেন তিনি। এ ছাড়াও ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি ভাষণের ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয় বিজেপির টুইটারে। এই দাঙ্গার পর রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, “যখন একটা বড় গাছ পড়ে, তখন মাটি কাঁপে।” এই কথা তুলে এনে মোদী বলেন, এত বড় ঘটনা কংগ্রেস সরকারের কাছে একটা গাছ ভেঙে পড়া ছাড়া আর কিছু ছিল না। মোদীর এই মন্তব্যের পর তাঁর সমালোচনা করেছেন রাজীব গান্ধীর তৎকালীন উপদেষ্টা স্যাম পিত্রোদা। পিত্রোদার মন্তব্যের পর ফের তার পাল্টা দেন মোদী।

টুইটারে প্রকাশ করা ভিডিয়োতে শিখ-বিরোধী দাঙ্গার জন্য কংগ্রেসকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রাজীব গান্ধীর মা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ব্যক্তিগত শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হওয়ার পরেই বদলা নেওয়ার জন্য এই দাঙ্গা হয়েছিল। দাঙ্গায় প্রায় ৩০০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। বিজেপির দাবি, এই পুরোটাই হয়েছিল কংগ্রেসের ঔদ্ধত্যের জন্য। শুধুমাত্র রাজীব গান্ধী নন, সজ্জন কুমার, জগদীশ টাইটলার, কমল নাথ, এইচ কে এল ভগতের মতো কংগ্রেস নেতাদেরও এই দাঙ্গায় দিল্লিতে শিখদের হত্যার জন্য দায়ী করা হয়েছে। এই ভিডিয়ো টুইট করার পর ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়েছে, “এই ভিডিয়ো আপনাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেবে। এ বার আপনি ঠিক করুন কাকে ভোট দেবেন।”

গত সপ্তাহে প্রথমবার কংগ্রেসকে আক্রমণ করার জন্য রাজীব গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে এনেছিলেন মোদী। বফর্স কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে এনে তিনি বলেছিলেন, “ভ্রষ্টাচারী নম্বর ১ হিসেবে জীবন শেষ হয়েছে রাজীব গান্ধীর।” মোদীর এই মন্তব্যের পরেই দেশের রাজনীতিতে শুরু হয় সমালোচনা। শুধুমাত্র কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীই নন, আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদীর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দে করেন। সমালোচনা হয় দলের অন্দরেও।

তবে এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র না দমে কিছুদিন পরে ফের আবার রাজীব গান্ধীকে নিয়ে মন্তব্য করেন মোদী। বলেন, “যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিরাটকে নিজের ব্যক্তিগত বেড়াতে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেছিলেন রাজীব। শুধু নিজে নন, তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকদেরও সেই জাহাজে চাপিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।” মোদী প্রশ্ন তোলেন, “ইতালির বাসিন্দাদের ভারতের যুদ্ধজাহাজে করে নিয়ে যাওয়া কি দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে ঝুঁকি নেওয়া নয়?” মোদীর এই মন্তব্যের পরেও সমালোচনা করতে ছাড়েনি কংগ্রেস। তারপর সম্প্রতি দিল্লিতে ভোটপ্রচারে গিয়ে ১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ফের রাজীব গান্ধীকে দুষলেন মোদী।

মোদীর এই মন্তব্যের পর রাজীব গান্ধীর তৎকালীন উপদেষ্টা স্যাম পিত্রোদা টুইট করে বলেন, “আবার মিথ্যা কথা বলছে বিজেপি। ১৯৮৪ সালে কী হয়েছিল সেই প্রসঙ্গ তুলে আনা হচ্ছে কেন? ১৯৮৪ হুয়া তো হুয়া ( ১৯৮৪ সালে যা হয়েছিল হয়েছিল )। গত পাঁচ বছরে বিজেপি কী করছে?” পিত্রোদার এই মন্তব্যের পর এ বার তাঁর ‘১৯৮৪ হুয়া তো হুয়া’, এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করেন মোদী। শুক্রবার হরিয়ানার রোহতকে নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, “গান্ধী পরিবারের খুব কাছের সেই সময়ের এক কংগ্রেস নেতা এত বড় ঘটনা নিয়ে বলছেন, যা হয়েছিল হয়েছিল। এই কথাতেই কংগ্রেস নেতাদের মানসিকতা ও চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়। এই নেতা আবার বর্তমান কংগ্রেস সভাপতির গুরু। অতগুলো মানুষের মৃত্যু তাদের কাছে কিছুই নয়। এরা আবার দেশ গড়ার কথা বলে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আসলে দিল্লি, হরিয়ানা ও পঞ্জাবের ভোট পাওয়ার জন্য। বর্তমানে পঞ্জাবে কংগ্রেসের সরকার। অন্যদিকে দিল্লিতেও বেশ কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে বিজেপি। তাই কৌশলে রাজীব গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে আনছেন মোদী। তিনি জানেন, ১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী দাঙ্গার পরেও অনেক শিখ দিল্লিতে থেকে গিয়েছিলেন। তাঁদের মনে এখনও সেই সময়ের ক্ষত দগদগে হয়ে রয়েছে। এ ছাড়াও পঞ্জাবের শিখদেরকেও নিজের দলে টানার চেষ্টা করছেন মোদী। আর তাই বারবার তুলে আনছেন রাজীব গান্ধীর প্রসঙ্গ।

আরও পড়ুন

মোদী নিজে দলিত নন, তাই পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর কষ্টটাও বুঝবেন না: মায়াবতী

Comments are closed.