কোঝিকোড়ে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত পাইলটের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, দু’সপ্তাহের মধ্যে বাবা হতেন অখিলেশ কুমার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষবার বাড়ি গিয়েছিলেন লকডাউন শুরু হওয়ার আগে। তারপর থেকে বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকলেও বন্দে ভারত মিশনের আওতায় বিদেশ থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার কাজ করছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট অখিলেশ কুমার। তবে খুব শিগগির বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সন্তান প্রসবের কথা ছিল। নিজের সন্তানকে আর কোলে নেওয়া হল না অখিলেশের। কেরলের কোঝিকোড়ে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

কোঝিকোড়ে দুবাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস আইএক্স- ১৩৪৪ এর কো-পাইলট ছিলেন অখিলেশ। পাইলট ছিলেন অভিজ্ঞ দীপক সাঠে। দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়। বিমানটি দু’টুকরো হয়ে যাওয়ার পর কেবিনের দিকের অংশে আগুন ধরে যাওয়াতেই দুই পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

এই খবর পাওয়ার পর শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। আর কয়েক দিন পরে যে বাড়িতে উৎসব হওয়ার কথা ছিল সেখানেই এখন শ্মশানের স্তব্ধতা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ও আত্মীয়স্বজনরা চেষ্টা করছেন অখিলেশের স্ত্রীকে বোঝানোর। অখিলেশের তুতো-ভাই বাসুদেব জানিয়েছেন, ১০-১৫ দিনের মধ্যেই বাচ্চা হওয়ার কথা রয়েছে। এই অবস্থায় বেশি মানসিক চাপ অখিলেশের স্ত্রীর পক্ষে খারাপ। কিন্তু কিছুই করা যাচ্ছে না।

বাসুদেব জানিয়েছেন, লকডাউনের আগে বাড়ি এসে খুবই খুশি ছিলেন অখিলেশ। শুক্রবার দেশে ফিরেই ছুটি নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না ২০১৭ সালে এয়ার ইন্ডিয়াতে যোগ দেওয়া ওই পাইলটের। ২০১৮ সালে বিয়ে হয় অখিলেশের। সেই হিসেবে খুব বেশিদিন তাঁদের বিয়ে হয়নি। শান্ত স্বভাবের অখিলেশ আগামী দিনের জন্য সুন্দর স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু এক দুর্ঘটনা সব কিছু শেষ করে দিল বলে জানিয়েছেন বাসুদেব।

শুক্রবার সন্ধেবেলা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ কেরলের কোঝিকোড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে রানওয়ে নম্বর ১০ অতিক্রম করে পাশের ৩৫ ফুট খাদে গিয়ে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। ওই বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী, ১০ সদ্যোজাত, দু’জন পাইলট ও চারজন বিমানকর্মী ছিলেন। করোনা আবহে বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর কাজ করছিল বিমানটি। দুর্ঘটনার পরেই ওই বোয়িং ৭৩৭ দু’টুকরো হয়ে যায়।

সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় বিমান থেকে সবাইকে বের করা সম্ভব হয়। অন্তত ১১২ জন আহতকে কোঝিকোড় ও মালাপ্পুরম জেলার একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে খবর।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসসাইটে জানা গিয়েছে, বিমানটি অনেকক্ষণ ধরে অবতরণের চেষ্টা করছিল। বিমানবন্দরের মাথায় চক্কর খেতে খেতে অন্তত দু’বার অবতরণের চেষ্টা করেও খারাপ আবহাওয়ার জন্য তা সফল হয়নি। তৃতীয়বার অবতরণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More