রবিবার, আগস্ট ২৫

বাঙালি কাস্টমারের সাহায্যে দিল্লির রেড লাইট এরিয়া থেকে উদ্ধার কলকাতার যুবতী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লির জি বি রোডের নিষিদ্ধপল্লি থেকে উদ্ধার করা হলো কলকাতার এক যুবতীকে। তাও আবার এক বাঙালি কাস্টমারের সাহায্যে। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই নিষিদ্ধপল্লির ম্যানেজারকে। কমলা মার্কেট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দিল্লির ডেপুটি কমিশনার মনদীপ সিং রণধাওয়া জানিয়েছেন, ওই কাস্টমার যুবতীর কাছ থেকে তাঁর ভাইয়ের নম্বর নিয়ে তাঁকে ফোন করেন। ভাই কাস্টমার সেজে সেখানে গিয়ে দিদিকে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর দেওয়া হয় মহিলা কমিশনেও। বৃহস্পতিবার ওই নিষিদ্ধপল্লিতে হানা দেন মহিলা কমিশনের সদস্য ও পুলিশ। উদ্ধার করা হয় যুবতীকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, যুবতী কলকাতার একটি প্রাইভেট ফার্মে কাজ করতেন। তখন তাঁর সঙ্গে আর একজন মহিলার পরিচয় হয়। মহিলা তাঁকে বলেন, দিল্লিতে ভালো কাজ পাইয়ে দেবেন। জুন মাসে ওই মহিলার সঙ্গে দিল্লি আসেন তিনি। তারপর তাঁকে ওই নিষিদ্ধপল্লিতে বিক্রি করে দেন ওই মহিলা। নিষিদ্ধপল্লির ম্যানেজার তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়ায় তিনি কাউকে জানাতে পারেননি।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ৮ জুন দিল্লি যান ওই যুবতী। ১০ জুন থেকে তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কোনওভাবেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি তাঁর। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর খোঁজ পায়নি পরিবার। জানা গিয়েছে, সবসময় কড়া নজরের মধ্যে রাখা হতো তাঁকে, যাতে কোনওভাবেই সেখান থেকে তিনি পালাতে না পারেন।

গত সপ্তাহে যুবতীর কাছে এক বাঙালি কাস্টমার যান। পুলিশ জানিয়েছে, যুবতীর সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝতে পারেন তিনি বাঙালি। তাঁর কাছে সব কথা শোনেন ওই কাস্টমার। তারপরে যুবতীর কাছ থেকে তাঁর ভাইয়ের নম্বর নিয়ে ভাইকে ফোন করেন তিনি। ভাই এ কথা শুনে নিজে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কাস্টমার সেজে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, তাঁরই দিদি সেখানে রয়েছে। তারপর সেখান থেকে ফিরে দিল্লির মহিলা কমিশনে অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগ জানানো হয়, কমলা মার্কেট থানাতেও।

বৃহস্পতিবার সেই নিষিদ্ধপল্লিতে হানা দেন মহিলা কমিশনের সদস্য ও পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ওই যুবতীকে। ম্যানেজার ছাড়াও আরও দুই দালালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছেন ওই যুবতী।

Comments are closed.