ভারতের নাগরিকত্ব বিলেও আপত্তি পাকিস্তানের, ইমরান বললেন মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ করেই চলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের পরেও সেই আক্রমণ জারি থাকল। ইমরানের বক্তব্য, এই বিল পাশ করে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। মোদী সরকারকে ফাসিস্ত তকমা দিলেন ইমরান।

    সোমবার মাঝরাতে সংসদে পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। মঙ্গলবার সকালে টুইট করেন ইমরান। টুইটে তিনি লেখেন, “নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ভারত। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। এটা আরএসএস-এর ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ তৈরি করার একটা ধাপ। ফাসিস্ত মোদী সরকার সেই কাজই শুরু করেছে।”

    এর আগে এনআরসি ইস্যুতেও মুখ খুলেছিলেন ইমরান। তখনও তিনি মোদী সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। বলেছিলেন, এর ফলে মুসলিমরা সমস্যায় পড়বে। বিজেপি চায় ভারত থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করতে। আরএসএস-এর কথায় চলছে মোদী সরকার। সেই একই প্রতিবাদ ফের শোনা গেল ইমরানের গলায়। যদিও ভারতের তরফে এর কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।

    অবশ্য ইমরানের এই মন্তব্যের পরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, কাশ্মীর ইস্যুতে না হয় মানা যায়, কিন্তু এনআরসি কিংবা নাগরিকত্ব বিল ভারতের নিজস্ব ব্যাপার। এই ব্যাপারে ইমরানের মন্তব্য করার কোনও মানে হয় না। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করে না নয়াদিল্লি। এভাবে বারবার আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সামনে হাসির খোরাক হচ্ছেন ইমরান নিজেই।

    সোমবার কাঁটায় কাঁটায় রাত ১২ টায় লোকসভায় নাটকীয় ভাবে পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ৩১১টি। আর বিলের বিপক্ষে ৮০টি ভোট পড়ে। এই বিল পাশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, যুক্তিসঙ্গত শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। মুসলিমরা ওই তিন দেশে সংখ্যালঘু নয়। বরং ওই তিন দেশই ইসলামিক রাষ্ট্র। সেখানে মুসলিমদের ধর্মাচারণে কোনও বাধা নেই। বরং নিগৃহীত হয়েছেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, পারসি, শিখ, জৈনরা।

    অমিত শাহ আরও জানান, এর পরেও পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা মুসলিমরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তা বিবেচনা করে দেখা হবে। তবে রোহিঙ্গাদের কোনওভাবেই ভারতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কারণ, মায়ানমার হল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ হয়ে ভারতে ঢুকতে চাইছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More