অরুণাচল সীমান্তে নতুন উপদ্রব লাল ফৌজের, সেনা বাড়াচ্ছে ভারত, সামরিক প্রস্তুতিও তৈরি

অরুণাচল সীমান্ত বরাবর চার জায়গায় সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করতে দেখা গিয়েছে চিনের বাহিনীকে। ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে আসাফিলা, টুটিং অ্যাক্সিস, চ্যাং জ়ি ও ফিসটেল-২ সেক্টরে সেনা মোতায়েন করতে দেখা গেছে চিনকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখের সীমান্তে অশান্তি জিইয়ে রাখার পাশাপাশি অরুণাচলের সীমান্তেও নতুন করে উপদ্রব শুরু হয়েছে চিনের লাল ফৌজের। ভারতীয় সেনা সূত্র আগেই সতর্ক করেছিল, অরুণাচলে চিন-ভারত সীমান্ত বরাবর সামরিক কাঠামো তৈরি করতে দেখা গেছে চিনের বাহিনীকে। সেনার সংখ্যাও বাড়াচ্ছে তারা। তবে শক্তিতে ও সামরিক কৌশলে ভারতের বাহিনী আরও কয়েক কদম এগিয়ে। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, অরুণাচল সীমান্তে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন শুরু করেছে ভারত। সামরিক প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে।

অরুণাচল সীমান্ত বরাবর চার জায়গায় সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করতে দেখা গিয়েছে চিনের বাহিনীকে। ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে আসাফিলা, টুটিং অ্যাক্সিস, চ্যাং জ়ি ও ফিসটেল-২ সেক্টরে সেনা মোতায়েন করতে দেখা গেছে চিনকে। ভারতের সেনা সূত্র জানাচ্ছে, এই চারটি স্পটের মধ্যে আসাফিলা এবং ফিসটেল-২ সেক্টরে চিনে বাহিনীর তৎপরতা বেশি। এই দুটি স্পট ভারতের সীমান্তের খুবই কাছে। অনুমান করা হচ্ছে এই দুই এলাকায় সেনার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি রাইফেল ডিভিশনও মোতায়েন করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি।

পূর্ব লাদাখে ভারতের শক্তির সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে অরুণাচলে নতুন করে সামরিক বিন্যাস করে ভারতের বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ারই চেষ্টা করছে চিন, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত এমনটাই। আপার সুবনসিরি এলাকা থেকে পাঁচ অরুণাচলি যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া চিনা কৌশলেরই একটি অংশমাত্র। কারণ পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার মতোই অরুণাচলের সীমান্ত নিয়েই দুই দেশের বাহিনীর বিবাদ অনেক পুরনো। সেই ১৯৬২ সালে ইন্দো-চিন যুদ্ধ বাধে এই অরুণাচলকে কেন্দ্র করেই। চিন একে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলেই মনে করে। পূর্ব লাদাখের মতো অরুণাচলেও আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া তারা।  জুন মাসে গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পরে অরুণাচল নিয়েও শঙ্কিত হয় ভারতের বাহিনী। তবে সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ওই এলাকাতেও নিয়মিত সেনার বিন্যাস বদলানো হয়। ভারত আগে থেকেই সব প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে। কাজেই চিনের কৌশল খুব একটা কাজে আসবে না।

লাদাখ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এই রাজ্যগুলিকে ছুঁয়ে রয়েছে চিনের সীমান্ত। লাদাখ তো বটেই, সিকিম, অরুণাচলে মাঝে মাঝেই চিনের বাহিনীর দাপট দেখা যায়। সেই ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চিনের কাছে বিভিন্ন ফ্রন্টে ভারতের বাহিনী তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়লেও গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষার পরিকাঠামো অনেক বদলে গেছে। রণনীতিতেও বদল এসেছে। সামরিক অস্ত্রশস্ত্র তো বটেই, রণকৌশলেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষতা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসনীয়। এতদিন বিভিন্ন সীমান্তে ভারতের ভূমিকা ছিল আত্মরক্ষার, কিন্তু এখন সীমান্তে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা নিয়ে যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই তৈরি ভারত। বরং ভারতের বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি লাল ফৌজেরও চিন্তার কারণ। চিনের বাহিনী আগ্রাসন দেখালে এখন আর শুধু ডিফেন্স নয় কঠোর প্রত্যাঘাত বা কাউন্টার-অফেন্সের জন্যই সবরকমভাবে প্রস্তুত ভারত। যে কোনও আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দেওয়ার ক্ষমতা দেশের বাহিনীর আছে।

গত কয়েক বছরে অরুণাচল সীমান্তের কাছাকাছি চারটি এলাকা যথা মেচুকা, ওয়ালং, জিরো ও আলং স্পটে আধুনিক ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড বা সীমান্তবর্তী এলাকার বিমানঘাঁটিগুলির আধুনিকীকরণ করেছে ভারত। তাছাড়া চিন সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যেই অরুণাচলপ্রদেশের সিয়াং জেলায় পাসিঘাট ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডও রয়েছে ভারতের। এখান থেকে যে কোনও বোমারু বিমান বা কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট ওঠানামা করতে পারে। ভারত চাইলে বোমারু বিমান উড়িয়ে বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রযুক্তিযুক্ত যুদ্ধবিমান উড়িয়ে চিনের সামরিক কাঠামো নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সীমান্ত বরাবর টুটিং এলাকায় যেখানে চিনের বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে, সেখানে লাল ফৌজের মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগেই তৈরি করে রেখেছে ভারত। ওই এলাকাতেও রয়েছে ভারতের বিমানঘাঁটি। তাই সবদিক থেকেই চিনের সামনে প্রতিরক্ষার বিরাট পাঁচিল রয়েছে ভারতের। আগ্রাসনের কোনও চেষ্টাই ফলপ্রসূ হবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More