লাদাখে চিন কিছুতেই ভারতের সঙ্গে এঁটে উঠবে না, আমাদের শক্তি অনেক বেশি: বায়ুসেনাপ্রধান ভাদুরিয়া

আগামী ৮ অক্টোবর ‘এয়ার ফোর্স ডে’। সেই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কথাবার্তা বলতে গিয়ে লাদাখ প্রসঙ্গ তুলে বায়ুসেনাপ্রধান বলেন, চিনের থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের শক্তি অনেক বেশি। ভারতীয় বাহিনী সামরিক কৌশলেও এগিয়ে রয়েছে। চিনের সেনা কিছুতেই ভারতের শক্তির কাছে পেরে উঠবে না।

২৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখে ভারতীয় বায়ুসেনার অবস্থান খুবই শক্তপোক্ত। যে কোনও দিক থেকেই শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করার মতো ক্ষমতা রয়েছে বায়ুসেনার। পূর্ব লাদাখের সীমান্তবর্তী এলাকায় যুদ্ধবিমান-সহ অত্যাধুনিক সমর সরঞ্জামও প্রস্তুত আছে। যে কোনও ধরনের সম্ভাব্য ঘটনার জন্য পুরোপুরি তৈরি ভারতীয় বায়ুসেনা, এমনটাই জানালেন বায়ুসেনাপ্রধান আর কে এস ভাদুরিয়া।

আগামী ৮ অক্টোবর ‘এয়ার ফোর্স ডে’। সেই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কথাবার্তা বলতে গিয়ে লাদাখ প্রসঙ্গ তুলে বায়ুসেনাপ্রধান বলেন, চিনের থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের শক্তি অনেক বেশি। ভারতীয় বাহিনী সামরিক কৌশলেও এগিয়ে রয়েছে। চিনের সেনা কিছুতেই ভারতের শক্তির কাছে পেরে উঠবে না।

এয়ার চিফ মার্শাল বলেছেন, নর্দার্ন ও ওয়েস্টার্ন, দুই ফ্রন্টেই শক্তি বাড়ানো হয়েছে। শত্রুপক্ষের যে কোনও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ ও আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে তৈরি বায়ুসেনা। অরুণাচল, সিকিম ও উত্তরাখণ্ডে চিন সীমান্তেও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রেখেছে বায়ুসেনা। বায়ুসেনাপ্রধানের কথায়, “সবকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তি বাড়িয়ে রেখেছে বায়ুসেনা। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে প্রস্তুতি আরও বেশি। লাদাখ সেখানে ছোট্ট একটা অংশ।”

গালওয়ানের সংঘর্ষের পরেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধবিমান নামিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এয়ার চিফ মার্শাল জানিয়েছেন, জুন মাসে হট স্প্রিংয়ের কাছে দুই দেশের বাহিনী মুখোমুখি সংঘাতে জড়ানোর পরেই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বায়ুসেনাকে। আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জন্য সবরকমভাবে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ফরওয়ার্ড বায়ুসেনাঘাঁটিগুলিতেও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। কোনওভাবে চিনের ফাইটার জেট ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে এলে যাতে কঠোর মোকাবিলা করা যায় তার জন্যই কমব্যাট ফাইটার জেটগুলিকে তৈরি থাকতে বলা হয়। ভাদুরিয়া বলেছেন, সীমান্তের সুরক্ষা নিয়ে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী সব সময় প্রস্তুত ও সজাগ থাকে। সামরিক পর্যায়ের আলোচনায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরেও চিনা সেনার অন্যায় আগ্রাসন কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভারতের পথে পা বাড়ালে লাল সেনাকে যোগ্য জবাব দেওয়ার মতো প্রস্তুতি আছে বায়ুসেনা বাহিনীর।

চিনকে ঠেকাতে পার্বত্য বাহিনীর পাশাপাশি আকাশসীমাকেও সুরক্ষিত রাখছে ভারত। প্রয়োজনে আকাশ থেকে ভূমিতে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতিও সেরে রাখছে বায়ুসেনা। লেহ-র কাছেই ভারতের বায়ুসেনা ঘাঁটি আছে। সেখান থেকে সুখোই-৩০এমকেআই, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই উড়ে এসেছে প্যাঙ্গং রেঞ্জে। হ্রদ পেরিয়ে বিপরীতে চুসুল রেজিমেন্টে টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক ও টি-৭২ যুদ্ধট্যাঙ্ক তৈরি হয়েই আছে।  সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে শক্তিশালী অ্যাটাক হেলিকপ্টার অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই, সিএইচ-৪৭ এফ চিনুক মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টার। এয়ার চিফ মার্শাল ভাদুরিয়া বলেছেন, ফ্রান্স থেকে কেনা পাঁচটি রাফাল ফাইটার জেটও মোতায়েন করা হবে লাদাখ সীমান্তে। পাহাড়ি এলাকায় নজরদারির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাফালের পাইলটরা।

লাদাখে ভারতীয় বায়ুসেনার ভূমিকা প্রশংসা করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও। তিনি বলেছিলেন, বালাকোটে অত্যন্ত পেশাদারি দক্ষতার সঙ্গে অভিযান চালিয়েছিল বায়ুসেনা। পূর্ব লাদাখের সীমান্তে চরম উত্তেজনার আবহেও বায়ুসেনা যেভাবে যুদ্ধবিমান-সহ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে, তাতে চিনকে বেশ কড়া রকমই বার্তা দেওয়া গিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More