শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

কার্ফু কেন কাশ্মীরে, কেন এত বিধিনিষেধ, জবাব দিলেন মুখ্যসচিব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৫ অগস্ট কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় জারি হয়েছে কার্ফু। যোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় বিচ্ছিন্ন। তার মধ্যেই কোনও রকমে ইদ পালন হয়েছে উপত্যকায়। এই কড়াকড়ি নিয়ে কেন্দ্রকে দুষছেন বিরোধীরা। কিন্তু এই ব্যবস্থা যে কাশ্মীরের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সে ব্যাপারে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যসচিব বিভিআর সুব্রহ্মন্যম।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যসচিব বলেন, “এই ক’দিনে কাশ্মীরে একটাও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উপত্যকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও শান্তি বজায় রাখতে কয়েকজনকে আটক হয়তো করা হয়েছে, কিন্তু তাদের গ্রেফতার করা হয়নি।” তিনি বলেন, গত দু’সপ্তাহ ধরে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাস বন্ধ করার জন্য। খবর ছিল, কাশ্মীরের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠন অনেক পরিকল্পনা করছে। আর তাই এই সব সিদ্ধান্ত নিতেই হতো।

সাংবাদিকদের সামনে সুব্রহ্মন্যম জানান, কিছু জায়গায় কার্ফু জারি করা হয়েছিল। বেশকিছু জায়গায় যোগাযোগ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সবটাই ধাপে ধাপে করতে হয়েছে। উপত্যকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাটাই সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেটা করার ক্ষেত্রে সরকার সফল বলেই দাবি করেছেন তিনি।

তবে এ বার ধাপে ধাপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে বলেই জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। তিনি বলেন, এলাকা ধরে ধরে স্কুল পুনরায় চালু করা হবে। যাতায়াতের মাধ্যমকেও স্বাভাবিক করা হবে। ফোন ও অন্য যোগাযোগের মাধ্যম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সুব্রহ্মন্যম জানিয়েছেন, “উপত্যকার ২২টা জেলার মধ্যে ১২টা জেলায় ঠিকঠাক কাজ চলছে। ৫টা জেলায় এখনও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি হয়নি।”

মুখ্যসচিব বিভিআর সুব্রহ্মন্যম জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে উপত্যকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যা যা দরকার, সবই করছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। জঙ্গিরা যাতে কোনও ভাবেই এই রাজ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি না করতে পারে, সে ক্ষেত্রে তৎপর রয়েছে কেন্দ্র।

Comments are closed.