রামচন্দ্রের মামাবাড়িতে নয়া পর্যটন কেন্দ্র, চাঁখুরিকে ঢেলে সাজছে ছত্তীসগড়ের কংগ্রেস সরকার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার থেকে অযোধ্যায় শুরু হবে মহাযজ্ঞ। বুধবার ঐতিহাসিক রামমন্দিরের ভূমিপূজনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মন্দিরনগরীতে যখন ভিত পুজোর চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি চলছে, তখন অযোধ্যা থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে ছত্তীসগড়ে চাঁদখুরিতে চলছে অন্য প্রস্তুতি। সেই রাজ্যের কংগ্রেস সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চাঁদখুরিতে রামের মামার বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র।

    পুরাণ অনুযায়ী চাঁদখুরিতে রামের মামার বাড়ি। এখানে জন্মেছিলেন কৌশল্যা। কথিত আছে, এই পথ দিয়েই বনবাসে গিয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। সেখানে রয়েছে প্রাচীন কৌশল্যামাতার মন্দিরও। এবার সেই মন্দিরকে কেন্দ্র করেই আশপাশের এলাকাকে ঢেলে সাজছে ভূপেশ বাঘেল সরকার। বরাদ্দ হয়েছে ১৫ কোটি টাকা।

    ছবির মতো সুন্দর এই চাঁদখুরি। চারিদিকে ঘন সবুজ জঙ্গল। রয়েছে একটি লেকও। তার মাঝেই রয়েছে কৌশল্যামাতার মন্দির। এবার সেই মন্দিরে পৌঁছনোর জন্য গড়া হবে কংক্রিটের ব্রিজ। ব্রিজের পিলার গুলি এমন ভাবে তৈরি হবে যাতে দেখে মনে হয় মানুষের হাত ধরে রেখেছে ব্রিজটিকে। সূর্য ডুবলেই সবুজ জঙ্গল থেকে লেকের জলে খেলে যাবে মায়াবী আলো। কানে ভেসে আসবে ভক্তিগীতি। সমস্ত পরিকল্পনা সারা হয়ে গিয়েছে। কেমন হবে চাঁদখুরির ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র তার নকশাও প্রকাশ করেছে ছত্তীসগড় সরকার।

    এমনিতে স্থানীয় মানুষজনের কাছে চাঁদখুরি পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবেই পরিচিত। প্রতি বছর দিওয়ালির সন্ধেবেলা কৌশল্যা মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে আসেন হাজারো মানুষ। প্রদীপ ভাসানো হয় লেকের জলে। এবার সেই স্থানীয় বিষয়টিকেই জাতীয় স্তরের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে ছত্তীসগড় সরকার। আগামী বছর দিওয়ালির আগে যাতে পুরো প্রকল্প শেষ করা যায় তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে হঠাৎ কেন এই প্রকল্প? অনেকের মতে, হিন্দুত্বের সেন্টিমেন্টকে হারাতে চাইছে না কংগ্রেস। পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, রাম যে বিজেপির একার নয়, ছত্তীসগড়ের কংগ্রেস সরকার সেই বার্তাই দিতে চাইছে গেরুয়া শিবিরকে। দেখা গিয়েছে করোনা আবহে রামমন্দিরের ভূমিপূজন নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দল সমালোচনা করলেও কংগ্রেস তেমন চড়া সুরে কিছু বলেনি। বরং কমলনাথদের মতো শীর্ষ সারির কংগ্রেস নেতারা মন্তব্য করেছেন, “সমগ্র ভারতীয়দের সম্মতিতেই তৈরি হচ্ছে রামমন্দির।” মধ্যপ্রদেশের সদ্যপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ এও বলেছেন, রাজীব গান্ধীও চেয়েছিলেন অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ হোক। রাজনৈতিক মহলের মতে, হিন্দুত্বের ব্র্যান্ডের পেটেন্ট বা সত্ত্ব যাতে বিজপির একার হাতে না থাকে সে কারণেই এই ধরনের প্রকল্প নিয়েছে ছত্তীসগড় সরকার। এটা নিছকই একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়। এর পিছনে রয়েছে রাজনীতিও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More