সোমবার, আগস্ট ১৯

রোগমুক্ত ‘বাহুবলী’, তাই ২২ জুলাই দুপুরেই চাঁদে পাড়ি, ইসরো জানাল তৈরি হচ্ছে চন্দ্রযান ২

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোটি কোটি ভারতবাসীর স্বপ্নকে বিফলে যেতে দিতে চায় না ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো। বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন ইসরোর শীর্ষ কর্তারা। তাই অপেক্ষা অগস্ট বা সেপ্টেম্বরের নয়, বরং ২২ জুলাই সোমবার বেলা ২টো ৪৩ মিনিট নাগাদ শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে জিএসএলভি মার্ক-৩ রকেটের পিঠে চেপে চাঁদের দিকে রওনা দেবে চন্দ্রযান ২।

টুইট করে ইসরো জানিয়েছে, ” সর্বাধুনিক জিএসএলভি মার্ক-৩ রকেটের ত্রুটির কারণে ১৫ জুলাই সোমবার থামিয়ে দিতে হয়েছিল চন্দ্রযান ২-এর উৎক্ষেপণ। সেই ত্রুটি এখন অনেকটাই মেরামত করে ফেলা গেছে। তাই আর অপেক্ষার কারণ নেই। আগামী ২২ জুলাই সোমবার ভারতীয় সময় দুপুর ২টো ৪৩ মিনিট নাগাদ ফের যাত্রা শুরু করবে চন্দ্রযান ২। ”

কী ত্রুটি হয়েছিল চন্দ্রযানে?

ইসরোর বিজ্ঞানীদের মতে গলদটা ছিল চন্দ্রযানের বাহক রকেট জিএসএলভি মার্ক-৩ এর মধ্যে। এর ক্রায়োজেনিক স্টেজে। ইসরো জানিয়েছে, বিশাল জিএসএলভি রকেটের মূল তিনটি চেম্বার। নিচের জ্বালানি ভরা সলিড প্রপেল্যান্ট চেম্বারের উপরে রয়েছে তরল জ্বালানি ভরা দু’টি লিকুইড প্রপেল্যান্ট চেম্বার। সলিড চেম্বারে অগ্নিসংযোগ করলে বিপুল চাপে উপরের দু’টি চেম্বারের গ্যাস (হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন) তরল হয়ে যায় এবং চাপ তৈরি করে। এই চাপই নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে বেরিয়ে রকেটকে উপরে ঠেলে তুলতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই চাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, বাষ্প বেরিয়ে জ্বালানি লিক করতে পারে। সেই সমস্যাই দেখা দিয়েছিল চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণের সময়ে। চাপ নিয়ন্ত্র্ণকারী ভাল্ব কাজ না করায় গ্যাস লিক করতে শুরু করেছিল। সঠিক সময়, উৎক্ষেপণ থামিয়ে না দিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

ইসরোর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, রকেটের চেম্বার থেকে সমস্ত জ্বালানি বার করে ফেলা হয়েছে। চাপ নিয়ন্ত্রণকারী সিস্টেমের গলদ সারানো হয়েছে। নতুন করে সেজে উঠছে রকেট।

পরবর্তী উৎক্ষেপণের সময় নিয়ে এত দ্বিধা কেন হলো?

তার একটা বড় কারণ হলো, চাঁদের অন্ধকার পিঠ মানে দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের একটা নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সেটা চাঁদের প্রদক্ষিণের সময় ধরে ঠিক হয়। সেই মাফিক উইনডো নির্বাচন করেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। এই উইনডো ঠিক হয় চাঁদের প্রদক্ষিণের সময়কাল ধরে।মহাকাশবিজ্ঞানীদের কথায়, চাঁদে এক দিন হয় পৃথিবীর ২৮ দিনের হিসেবে। অর্থাৎ নিজের কক্ষপথে লাট্টুর মতো ঘুরপাক খেতে চাঁদ সময় নেয় পৃথিবীর ২৮টি দিন। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতেও চাঁদ ওই একই সময় নেয়। এই ২৮ দিন সময়ের মধ্যে চাঁদের কোনও একটি এলাকায় সূর্যের আলো থাকে ১৪ দিন ধরে। পরের ১৪ দিন থাকে অন্ধকার।

ইসরোর ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভারের যেগুলির চাঁদে পিঠে নামার কথা, তারা কাজ করে সৌরশক্তিতে। সেই হিসেবে ১৫ জুলাই উৎক্ষেপণ হলে, চাঁদে নামতে চন্দ্রযান ২-এর সময় লাগত ৫৩-৫৪ দিন। ৬ সেপ্টেম্বর রাতে পৌঁছলে ৭ সেপ্টেম্বর সূর্যের আলো ফোটার সময় থেকেই ল্যান্ডার বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞান কাজ করতে পারত। যে সময়টা চাঁদের ওই নির্দিষ্ট পিঠে থাকত সূর্যের আলো। টানা ১৪ দিন ধরে কাজ করতে পারত ল্যান্ডার ও রোভার। ১৫ জুলাইয়ের পরবর্তী উইনডো ছিল ৩১ জুলাই। ইসরোর বিজ্ঞানীদের কথায়, ৩১ জুলাই দিনটিকে টার্গেট করে রাখলে, কোনও ভাবে যদি উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয় তাহলে ১৪ দিনের ওই হিসেবটা নড়চড় হয়ে যাবে। আবার পরবর্তী উইনডো অর্থাৎ অগস্ট বা সেপ্টেম্বরে চন্দ্রযান ২ কে রওনা করালে, সে ক্ষেত্রে চাঁদে নেমে কাজ শুরু করতে আরও অনেকটা দিন বেশি লেগে যেত। প্রায় হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প এবং চাঁদের রহস্যময় দিক নিয়ে গবেষণাতে একেবারেই বিলম্ব করতে চায় না বলেই জানিয়েছে ইসরো।

Comments are closed.