সোমবার, ডিসেম্বর ৯
TheWall
TheWall

ধাপে ধাপে চাঁদে, প্রথম কক্ষপথ ছেড়ে দ্বিতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়েছে চন্দ্রযান, তৃতীয়ে যাবে ৭ দিন পর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটার পর একটা স্তর পার হচ্ছে চন্দ্রযান ২, আর উদ্বেগের প্রহর ততটাই গাঢ় হচ্ছে। ৭ সেপ্টেম্বরের ধাক্কা পার না হওয়া অবধি স্বস্তি নেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানীদের। ২০ অগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে লিকুইড চেম্বার ইজেক্ট করে লুনার অরবিটে ঢুকে গিয়েছিল চন্দ্রযান। ১৭৩৮ সেকেন্ড লেগেছিল প্রথম কক্ষপথে জমিয়ে বসতে। আজ, ২১ অগস্ট চাঁদের প্রথম কক্ষপথের পরিধি ছাড়িয়ে  দ্বিতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়ল চন্দ্রযান ২।

বুধবার সকাল থেকেই মনিটরে চোখ রেখে ফের উৎকণ্ঠার সময় গুনছিলেন ইসরোর মহাকাশবিজ্ঞানীরা। বেলা ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ চাঁদের প্রথম কক্ষপথ ছেড়ে একটু একটু করে বেরিয়ে যায় চন্দ্রযান ২। প্রথম কক্ষপথের পরিধি ছিল ১১৪ কিলোমিটার*১৮০৭২ কিলোমিটার। ইসরো জানিয়েছে, এই পথ একবার পাক খেয়ে নিয়েছে চন্দ্রযান। এ বার ১১৮ কিলোমিটার*৪৪১২ কিলোমিটার পরিধির কক্ষপথে তার এন্ট্রি হয়েছে। প্রথম থেকে দ্বিতীয়ে, এই সফরের সময় লেগেছে ১২২৮ সেকেন্ড।

টুইট করে ইসরো জানিয়েছে, ‘‘চাঁদের দ্বিতীয় কক্ষপথে চন্দ্রযানের প্রবেশ পুরোপুরি সফল। গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সে এখন দ্বিতীয় কক্ষপথে লাট্টুর মতো পাক খাচ্ছে। আগামী ২৮ অগস্ট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে, তৃতীয় কক্ষপথে ঢুকে যাবে চন্দ্রযান।’’

আরও পড়ুন: ১৭৩৮ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শেষ, চাঁদের কক্ষপথে ঢুকে পড়েছে চন্দ্রযান ২, চাঁদের মাটি ছোঁয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবারই সাংবাদিক বৈঠক করে ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানিয়েছিলেন, চাঁদের প্রথম কক্ষপথে ঢোকার সেই ৩০ মিনিট হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে গিয়েছিল। কক্ষপথে পা রাখার মুহূর্তে উপগ্রহের গতি সামান্য বেশি হলে প্রতিক্রিয়া সেটা পিছিয়ে আসত অনেকটাই। ফলে ইনসারশন সম্পূর্ণ হত না। গতি কম হলে চাঁদের বুকে আচড়ে পড়ত চন্দ্রযান, আর গতি বেশি হয়ে গেলে মহাকাশে হারিয়ে যেত। চান্দ্রায়ন-২ যখন যাত্রা করে, তখন তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ২৪০ কিলোমিটার। পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে মহাকাশে ভ্রমণ করে লুনার ট্রাজেক্টারিতে প্রবেশের আগে তার গতি ও শক্তি ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছে। তবে কক্ষপথে ইনসারশনের আগে চাঁদের কক্ষপথের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চন্দ্রযানের গতি নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।

গত ২২ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধওয়ন স্পেস রিসার্চ সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেয় চন্দ্রযান-২। জিয়ো সিনক্রোনাইজড লঞ্চ ভেহিক্যাল থেকে বাহুবলী রকেটের পিঠে চড়ে চন্দ্রযান উড়ে যায় তিনটি অংশ— অরবিটর স্যাটেলাইট, বিক্রম ল্যান্ডার এবং প্রজ্ঞান রোভার নিয়ে। তিনটি অংশ মিলিয়ে ওজন ৩৮৫০ কেজি।

উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পৃথিবীর কক্ষপথে হই হই করে ঢুকে পড়েছিল চন্দ্রযান-২।  ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এতদিন লাট্টুর মতো পৃথিবীর চারধারেই পাক খাচ্ছিল সে। ১৪ অগস্ট ভারতীয় সময় রাত ২টো ২১ মিনিট নাগাদ অভিকর্ষজ বলকে পিছনে ফেলে পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যায় চন্দ্রযান। ১২০৩ সেকেন্ডের মধ্যে রকেটের লিকুইড চেম্বারের ইজেকশন হয়। চন্দ্রযান সফল ভাবে ঢুকে পড়ে চাঁদের পথে ‘লুনার ট্রান্সফার ট্রাজেক্টরি’-তে। ইসরো সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল, পৃথিবী এবং চন্দ্রের কক্ষপথে ঘোরার মধ্যে মোট ১৫টি ধাপে শক্তি বাড়ানো হবে। এই ভাবেই ধীরে ধীরে এগিয়ে দেওয়া হবে চাঁদের দিকে। তার পর সব শেষে চাঁদের মাটিতে নামবে বিক্রম ল্যান্ডার।

আরও পড়ুন:

ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির জট খুলবে! মিলবে গুপ্তধনও! ইসরো বলল, কেন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতেই ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে গোটা বিশ্ব

Comments are closed.