বুধবার, অক্টোবর ১৬

মমতাকে বলেছিলেন আঠারোটা পাবো, চন্দ্রবাবুর পার্টিটাই উঠে যাওয়ার জোগাড়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটে বিপর্যয়ের পর চন্দ্রবাবু নাইডু এখন আমেরিকায় কয়েক দিনের ছুটি কাটাতে গিয়েছেন। এ দিকে তাঁর পার্টিটাই প্রায় উঠে যেতে বসেছে!

রাজ্যসভায় তেলুগু দেশমের ৬ জন সাংসদ ছিল। আজ তাঁদের চার জনই পার্টি ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিলেন। শুধু তা না, উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডুর সঙ্গে দেখা করে আর্জি জানালেন, তেলুগু দেশমের সংসদীয় দলকে বিজেপি-র সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হোক। সংবিধানের দশম তফসিলে এই বিধান রয়েছে।

টি জি ভেঙ্কটেশ সহ ওই চার তেলুগু দেশম সাংসদকে এ দিন বেঙ্কাইয়ার কাছে নিয়ে যান বিজেপি-র কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডা।

গত কয়েক মাস ধরে চন্দ্রবাবু নাইডু যেন বাংলার অত্যন্ত পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সখ্য শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশের নজর কেড়েছিল। লোকসভা ভোটে তাঁকে বাংলায় প্রচারে নিয়ে এসেছিলেন মমতা। চন্দ্রবাবুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলেছিলেন, কেন্দ্রে এ বার আঞ্চলিক দলের নেতৃত্বে সরকার হবে। আর তেলুগু দেশম পার্টির সভাপতি চন্দ্রবাবু মমতাকে বলেছিলেন, অন্ধ্রে এ বার তাঁর পার্টি কম করে ১৮ টি আসন পাবে!

অথচ ভোটে দেখা যায়, রাজ্যের ২৫ টি আসনের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জিতেছে তেলুগু দেশম। বাকি সব আসন জিতে নিয়েছে জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস। বিধানসভা ভোটেও চন্দ্রবাবুকে কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত করে ক্ষমতা দখল করেছেন জগনমোহন রেড্ডি।

বিজেপি শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, তেলুগু দেশমের রাজ্যসভার বাকি দুই সাংসদ এবং লোকসভার তিন সাংসদও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যার অর্থ তেলুগু দেশমের সংসদীয় পার্টির কোনও অস্তিত্বই থাকবে না। তবে জগনমোহনের দল তথা ওয়াইএসআর কংগ্রেসের এক নেতার দাবি, লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে বাকি পাঁচ সাংসদের মধ্যে তিন জন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন।

আমেরিকায় বসে এ সব শুনে চন্দ্র-র ছুটি যে মাটি হয়েছে সন্দেহ নেই। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি ফোনে বলেন, “বিজেপি-র সঙ্গে আমার তেমন বিরোধ ছিল না। অন্ধ্রের জন্য স্পেশাল স্টেটাস দাবি করে এনডিএ ছেড়েছিলাম। তেলুগু দেশমের সমর্থকদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ফের ঘুরে দাঁড়াব আমরা”।

Comments are closed.