মঙ্গলবার, জুন ২৫

নিজেদের ব্যর্থতা এড়াতেই ‘ইভিএম চুরিতে অভিযুক্তর’ প্রসঙ্গ, কমিশনের চিঠির পাল্টা জবাব চন্দ্রবাবুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দফার নির্বাচনে দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি অশান্তি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। হিংসার বলি হয়েছেন দু’জন। কারচুপি ও সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। ৩০-৪০ শতাংশ কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। আর তারপর থেকেই কমিশনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত চরমে। কমিশনের তরফে চিঠি লিখে চন্দ্রবাবুকে অভিযোগ জানানো হয়েছে, ন’বছর আগে ইভিএম চুরিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘুরছেন কেন? কমিশনকে উত্তরও দিয়েছেন তেলুগু দেশম পার্টি প্রধান। চন্দ্রবাবু বলেছেন, এইসব প্রশ্ন করে নিজেদের ব্যর্থতাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের চিঠির জবাবে তেলুগু দেশম পার্টির তরফে জানানো হয়েছে, যে হরিপ্রসাদ ভেমুরুর নামে অভিযোগ করছে কমিশন, তাঁর বিরুদ্ধে গত ন’বছরে কোনও চার্জশিট জমা দেয়নি পুলিশ। এ ছাড়াও ন’বছর আগেই তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে আমেরিকার ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন পায়োনিয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন। তারপরেই চন্দ্রবাবু নাইডুর দলের তরফে অভিযোগ করা হয়, আসল বিষয়ে নজর না দিয়ে বিষয় ঘুরিয়ে আসলে পরিস্থিতি এড়াতে চাইছে কমিশন। নিজের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে তারা। তার থেকে কমিশনের উচিত ছিল হরিপ্রসাদ ভেমুরু যেসব প্রশ্ন তুলেছেন, সেগুলি নিয়ে আলোচনা করে জবাব দেওয়া। অন্ধ্রের শাসকদলের তরফে হরিপ্রসাদের আরও প্রশংসা করে জানানো হয়েছে, ভারতের ভোটিং মেশিনের নেতিবাচক দিক নিয়ে একটি রিসার্চ পেপারও সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তিনি। ভেমুরুর এই রিসার্চ পেপার প্রাক্তন দুই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি ও ভি এস সম্পথের খুব পছন্দ হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেলুগু দেশম পার্টি।

ইভিএমে গন্ডগোল নিয়ে অভিযোগ জানাতে শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। তাঁর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার প্রথম দফা ভোটের সময় অন্ধ্রপ্রদেশে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটযন্ত্র ঠিকমতো কাজ করেনি। তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর কয়েক ঘণ্টা বাদেই নির্বাচন কমিশন পাল্টা চিঠি দেয় তাঁকে। তাতে বলা হয়, ‘যখন ইভিএম নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তখন আপনার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বার বার নানা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলছিলেন। আমরা পরে জানতে পেরেছি, ওই ব্যক্তির নাম হরিপ্রসাদ। ২০১০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ইভিএম চুরির অভিযোগ উঠেছিল। মুম্বইয়ে তাঁর নামে এফআইআর হয়েছে।’ চিঠিতে আরও বলা হয়, খুবই আশ্চর্যের বিষয়, অতীতে যার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠেছে, তিনি কী করে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুর প্রতিনিধি দলে স্থান পেতে পারেন। হরি প্রসাদের মতো ব্যক্তির সঙ্গে কোনও সম্পর্কই রাখা উচিত নয়।

চন্দ্রবাবুর দাবি, ভোটযন্ত্রের গোলমালে রাজ্যের দেড়শ বুথে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে। সেখানে ফের নির্বাচন করাতে হবে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে চলছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। কিন্তু তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না।

প্রথম দফার ভোটগ্রহণের সমালোচনা করে চন্দ্রবাবু শুক্রবার বলেন, সেদিন রীতিমতো প্রহসন হয়েছে। মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। মোট ৪৫৮৩ টি ভোটযন্ত্রে সমস্যা হয়েছে। ভোটের দিনই চন্দ্রবাবু ফের ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি লেখেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব নিয়োগ নিয়েও চন্দ্রবাবু নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, যে ব্যক্তিকে মুখ্যসচিব নিয়োগ করা হয়েছে, তিনি অতীতে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির মামলায় জগনের (রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ওয়াই এস আর কংগ্রেসের নেতা জগনমোহন রেড্ডি ) সঙ্গে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

ভিন জাতের ছেলেকে বিয়ে! চড়া রোদে স্বামীকে কাঁধে নিয়ে হাঁটার নিদান গ্রামের মাতব্বরদের

Comments are closed.