শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

কাশ্মীরে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে ব্লু-প্রিন্ট কেন্দ্রের, চার পদক্ষেপের পরিকল্পনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত উপত্যকা। অশান্তি যাতে না ছড়ায় তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। কখনও ১৪৪ ধারা জারি করে, কখনও বা ইন্টারনেট ও ফোন পরিষেবা বন্ধ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কীভাবে রক্ষা করা যায়, সেটাই বর্তমানে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। জানা গিয়েছে, তার জন্য চার ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।

কী এই চার পদক্ষেপ?

সূত্রের খবর, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ভাবা হয়েছে যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে অশান্তি পাকাতে পারে, তাদের দমন করা। এই ধরণের লোকদের বলা হয় ‘মুভার্স অ্যান্ড শেকার্স’। এরা মূলত মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের কাছে খবর জোগাড় করে ও মানুষের মধ্যে থেকেই অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে। এদের দেখে মনে হয় নিরীহ, অথচ তলায় তলায় ঝামেলা পাকায় তারা। মূলত হুরিয়ত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের এই গোষ্টীতে ফেলা হয়েছে। যারা এই ধরণের কাজ করে তাদের আটক করে নিজেদের হেফাজতে কিংবা গৃহবন্দি করে রাখতে চাইছে কেন্দ্র।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হলো, যারা সেনা ও পুলিশের উপর পাথর ছোঁড়ে তাদের আটকানো। এই কাজ মূলত কাশ্মীরি তরুণ ও যুবকদের দিয়ে করানো হয়। জানানো হয়েছে, এই যুবকদের সঙ্গে মিশে তাদের পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা হবে। তারপর তাদের মূলস্রোতে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে। দরকার পড়লে পরিবারকে দিয়ে বন্ডে সই করে নেওয়া হতে পারে যে ভবিষ্যতে তাদের পরিবারের ছেলেরা এই ধরণের কাজ থেকে দূরে থাকবে।

তৃতীয় পদক্ষেপ হলো জঙ্গিদমন। কাশ্মীরে সন্ত্রাস দমন করতে লাইন অফ কন্ট্রোলে ( এলওসি ) সেনা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। এ ছাড়াও উপত্যকার অভ্যন্তরেও বাড়ানো হবে সেনা। যাতে কোনও ভাবেই জঙ্গিরা নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতে না পারে, সে দিকে তৎপর থাকবে সেনা।

চতুর্থ পদক্ষেপ হলো ধর্মগুরুদের প্রভাব কমানো। জানা গিয়েছে, উপত্যকায় এমন অনেক ধর্মগুরু রয়েছে, যারা সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে অশান্তি পাকায়। এই ধরণের ধর্মগুরুদের আটক করারও পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র।

Comments are closed.