৩০ কোটিকে আগে দেওয়া হবে করোনার টিকা, কারা পাবে তালিকা দিল কেন্দ্র

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০ কোটিকে আগে করোনার টিকা দেওয়া হবে। তার জন্য প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে সে প্রটোকল পৌঁছে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনেই টিকাকরণ করতে হবে।

২,৯০৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকা কবে আসবে সে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল এতদিন। তাতে কেন্দ্র জানিয়েছিল, একুশের গোড়াতেই দেশে কোভিড ভ্যাকসিন চলে আসার সম্ভাবনা প্রবল। একাধিক সংস্থার ভ্যাকসিন দেশের বাজারে চলে আসবে বলেই দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। এরপরে প্রশ্ন উঠেছিল, টিকা চলে আসার পরে প্রথম কাদের দেওয়া হবে। টিকার অগ্রাধিকার পাবে কারা?  এ প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র বলেছিল, গুরুত্ব বুঝেই টিকার সমবন্টন করা হবে। কাদের আগে দেওয়া হবে তার গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০ কোটিকে আগে করোনার টিকা দেওয়া হবে। তার জন্য প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে সে প্রটোকল পৌঁছে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনেই টিকাকরণ করতে হবে। যে বয়সের মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তার তালিকাও তৈরি হচ্ছে। এর জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রক রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে মিলে কাজ করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই মুহূর্তে একটি ফরম্যাট তৈরি করছে যেখানে রাজ্যগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জনসংখ্যার তালিকা জমা দিতে পারে। এই ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে তার একটা রূপরেখাও জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

কারা আগে পাবে করোনার টিকা?

পেশা, বয়স ইত্যাদির ভিত্তিতে গুরুত্ব বুঝে চারটি ক্যাটেগরি করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। প্রথমেই রয়েছেন ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আশাকর্মী, ডাক্তারি পড়ুয়ারা। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে আগে। দ্বিতীয়ত, পুলিশ, প্রশাসন, মিউনিসিপ্যালিটির কর্মী মিলিয়ে অন্তত ২ কোটি জনকে টিকা দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছে।  তৃতীয় ক্যাটেগরিতে রাখা রয়েছে ২৬ কোটি মানুষকে, যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি। চতুর্থ ক্যাটেগরিতে থাকবে কোমবির্ডিটির রোগীরা এবং ৫০ বছরের কম লোকজন যাদের পেশার জন্য বেশি মেলামেশা করার প্রয়োজন হয়। এই চার ক্যাটেগরিতে কারা থাকবেন তাদের তালিকা তৈরি করে নভেম্বরের মাঝামাঝি জমা করতে হবে কেন্দ্রকে। এই তালিকায় যাদের রাখা হবে তাদের আধার কার্ড ও অন্যান্য পরিচয়পত্র দিতে হবে রাজ্যগুলিকে।

কেন্দ্র জানিয়েছে, কাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, কী পরিমাণ ডোজ বিতরণ করা হচ্ছে এবং টিকা সংরক্ষণের কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তার রিপোর্ট রাখতে অনলাইন ট্রেনিং মডিউল তৈরি হচ্ছে। ‘ইলেকট্রনিক ভ্যাকসিন ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক’ নামে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিকার বিতরণ ও সংরক্ষণের সব তথ্য রেকর্ড করা থাকবে।

দেশে কোন টিকার বিতরণ কীভাবে হবে তা ঠিক করার জন্য ন্যাশনাল ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির তরফে বিশেষজ্ঞ দল ঠিক করা হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞ দলই ঠিক করবে কোন ভ্যাকসিনটি ব্যবহার যথার্থ হবে। এর পাশাপাশি এর বিতরণ কীভাবে হবে, টাও ঠিক করবেন এই কেন্দ্রীয় দলের বিশেষজ্ঞরা। এর জন্য কেন্দ্রীয় এই বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলবে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন, টিকার উৎপাদন ও বন্টন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি টিকার সংরক্ষণের জন্যও রূপরেখা তৈরি করছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। দেশে এখন যতগুলি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে তাদের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হচ্ছে। কী পরিমাণ টিকার ডোজ দেশের বাজারে আসতে পারে তার সম্ভাব্য পরিমাপ করে অতিরিক্ত কতগুলি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করতে হবে তার ম্যাপিং করা হচ্ছে। সাধারণত হিমাঙ্কের নিচে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টিকা সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয়। এয়ার ট্রান্সপোর্টের সময় রেফ্রিজারেটার না থাকলে কোল্ড আইসেও টিকা সংরক্ষণ করে নিয়ে আসা যায়। তবে সব ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির টিকার ফর্মুলা এক নয়। তাই টিকার ভায়াল কতদিন কোল্ড স্টোরেজে রাখতে হবে, কত তাড়াতাড়ি বিতরণ করতে হবে, তার একটা গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন। বেশিদিন টিকার ভায়াল কোল্ড স্টোরেজে রাখলে তার ডোজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া একবার ভায়ালের সিল খুললে তাকে ফের রেফ্রিারেটারে ঢোকানো সম্ভব নয়। তাই কী পরিমাণ ডোজ দেওয়া হবে সেটা আগে থেকেই ঠিক করে নেওয়া দরকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More