শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

নৈতিক জয় হলো সিবিআইয়ের, বললেন সন্তুষ্ট কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সিবিআই-এর যুদ্ধ নিয়ে মঙ্গলবার বেলা এগারোটা নাগাদ রায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধর্মতলার ধর্ণা মঞ্চ থেকে সেই রায়কে গণতন্ত্রের জয় বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার এই কথা বলার আধ ঘণ্টার মধ্যে দিল্লিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ পাল্টা দাবি করেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় সিবিআই-এর নৈতিক জয়।”

কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী বলেন, “গত দু’বছর ধরে জেরা এড়িয়ে চলছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। হাজিরা দেননি বারবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও। সিবিআই চেয়েছিল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। এ দিন সুপ্রিম কোর্ট সেটাই স্পষ্ট বলে দিয়েছে।”

সুপ্রিম কোর্ট এ দিন রায়ে বলেছে, রাজীব কুমারকে আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। সেই সঙ্গে দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এ-ও বলেছেন যে, সিবিআই ডাকলে রাজীব কুমারকে হাজিরা দিতে হবে। জায়গাও ঠিক করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা নয়। দিল্লিও নয়। ‘নিরপেক্ষ’ জায়গা শিলং-এ হবে সেই জেরা। গ্রেফতারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আন্দোলনের জয় বলতে চেয়েছিলেন ধর্ণা মঞ্চ থেকে। কিন্তু কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী একেবারে অন্য দিকটি তুলে ধরে বোঝাতে চাইলেন, জয় কেন্দ্রীয় এজেন্সিরই।

আইনমন্ত্রীর মতে, গ্রেফতারের কোনও ব্যাপার তো ছিলই না। সিবিআই নোটিস পাঠিয়েছিল জেরার জন্য। রবিবারও তা করতেই কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। কিন্তু কলকাতা পুলিশ তা করতে দেয়নি। রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “যা গত দু’বছর ধরে সিবিআই নোটিস পাঠিয়ে করতে চেয়েছিল, এ দিন তাকেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট।”

গতকালই কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, “বাংলায় কী হচ্ছে! পুলিশ কমিশনার গিয়ে ধর্ণায় বসে পড়ছেন!” এ দিন ফের একবার সিবিআই ইস্যুতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। বলেন, “উনি কেন আসেননি আগে? তাহলে তো এত কিছু করতেই হতো না। কী লুকোনোর আছে ওঁর? যে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন!”

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন দু’পক্ষই রাজনৈতিক কারণে ‘নৈতিক জয়’ বলবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ বার দেখার শিলং-এ ঠিক কী  হয়।

আরও পড়ুন

#Breaking: সুপ্রিম কোর্টের রায় নৈতিক জয়, ধর্ণামঞ্চ থেকে বললেন মমতা

Shares

Comments are closed.