চন্দ্রযানের পরে কার্টোস্যাট ৩ মিশন নভেম্বরেই, ১৩টি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাবে ইসরো

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  চন্দ্রযানের পরে গগনযান। পৃথিবীর কক্ষে ভারতের স্পেস স্টেশনের বানানোর কাজও শুরু হবে। ২০২০ সালে সূর্যের দেশেও পাড়ি দিতে পারে ইসরোর মহাকাশযান ‘আদিত্য এল ১।’ তার মাঝে আরও একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার। ২০১৭ সালে কার্টোস্যাট ২ মিশন সফল। চলতি মাসের শেষে কার্টোস্যাট সিরিজেরই পরবর্তী সংযোজন কার্টোস্যাট ৩ মহাকাশে পাঠাবে ইসরো। সেই সঙ্গে আরও ১৩টি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘সান সিনক্রোনাস অরবিট (SSO)’-এ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসরো সূত্রে খবর, শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র থেকে ২৫ নভেম্বর সকাল ৯টা ২৮ মিনিট নাগাদ ১৩টি কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ে উড়ে যাবে কার্টোস্যাট ৩ স্যাটেলাইট। পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল ‘পিএসএলভি-সি৪৭’-এর পিঠে চাপিয়ে কার্টোস্যাটকে পাঠানো হবে ৫০৯ কিলোমিটার কক্ষপথে।

১৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের কার্টোস্যাট ৩ অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট। ইসরো চেয়ারম্যান কে শিভন জানিয়েছেন, কার্টোস্যাটের পুরনো সিরিজের উপগ্রহের ক্যামেরার রেজোলিউশন ছিল ০.৫ মিটার বা ৫০ সেন্টিমিটার। এ বার যা করা হয়েছে ০.২ মিটার বা ২০ সেন্টিমিটার। যার অর্থ, এত দিন ৫০ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের কোনও পদার্থকে মহাকাশ থেকে নিখুঁত ভাবে দেখতে পারত না কার্টোস্যাটের পুরনো সিরিজের উপগ্রহের ক্যামেরা। এ বার কার্টোস্যাটের নতুন সিরিজের উপগ্রহ কার্টোস্যাট-৩-এর ক্যামেরা ২০ সেন্টিমিটার আকারের পদার্থকেও মহাকাশ থেকে ভাল ভাবে দেখতে পারবে।

৭১২ কেজির কার্টোস্যাট-২ ছিল মূলত রিমোট-সেন্সিং স্যাটেলাইট। পৃথিবীকে নিরীক্ষণ করার জন্যই পাঠানো হযেছিল এই উপগ্রহ। কার্টোস্যাট ৩ আরও উন্নতমানের। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি তো বটেই, দেশের প্রতিরক্ষার কাজেও ব্যবহার করা যাবে এই কৃত্রিম উপগ্রহ। সূক্ষাতিসূক্ষ বস্তু এর হাই রেজোলিউশন লেন্সে বন্দি হবে। কাজেই সীমান্তের ওপারে জঙ্গিদের ঘাঁটি বা তাদের বাঙ্কার, গাছ-পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সুড়ঙ্গগুলি সহজেই ধরা দেবে এর ক্যামেরায়। এমনকি বন্দুকের মতো অস্ত্রশস্ত্রও দেখা সম্ভব হবে।

চন্দ্রযাত্রার পরবর্তী মিশনগুলো আরও বড় এবং ইতিহাস তৈরি করবে বলে আগেই জানিয়েছে ইসরো। আগামী বছর থেকে জোরকদমে আরও তিন ঐতিহাসিক লক্ষ্যের পথে পা বাড়াবে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।  চাঁদের পরে সূর্যের দেশে ছুটবে ইসরো। গগনযানে চেপে মহাকাশে পাড়ি দেবেন তিন নভশ্চর। পৃথিবীর কক্ষপথে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্পেস স্টেশন বানানোর কাজও শুরু হবে। নাসার লুনার স্টেশনের মতো মহাকাশে নিজেদের বাড়ি বানিয়ে নতুন নজির গড়বে ভারত।

ইসরোর ‘সোলার মিশন’ (Solar Mission) নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। কারণ নাসা আর ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ বা ‘এসা’) পর ভারতই প্রথম পাড়ি দিচ্ছে সৌর-মুলুকে। এই অভিযান সফল হলে, মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে পাকাপাকি ভাবে সেরার শিরোপাটা ছিনিয়ে নেবে ভারত। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন বলেছেন, ‘‘পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝের এক কক্ষপথ ‘ল্যাগরাঞ্জিয়ান পয়েন্ট’ বা ‘ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট’-এ ল্যান্ড করবে স্যাটেলাইট আদিত্য এল-১। সূর্যের বাইরের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্তর করোনার যাবতীয় তথ্য সে তুলে দেবে আমাদের হাতে। এই সোলার-মিশন তাই সবদিক দিয়েই খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’ ২০২০ সালের প্রথম দিকেই সূর্যের দিকে পাড়ি জমাবে আদিত্য এল-১।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More