ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে ভারতে, আগামী পাঁচ বছরে মারণ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে ১২%: আইসিএমআর

সমীক্ষায় দাবি, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন। কুড়ির শেষেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৩ লাখের কাছাকাছি। আইসিএমআর জানাচ্ছে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্যের নেশা লাগামছাড়া হয়ে গেছে। তামাকের নেশার কারণে মুখ ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে উত্তর-পূর্বে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে ভারতে। আগামী পাঁচ বছরে দেশে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। নতুন সমীক্ষায় এমনটাই দাবি করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।

সমীক্ষায় দাবি, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন। কুড়ির শেষেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৩ লাখের কাছাকাছি। আইসিএমআর জানাচ্ছে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্যের নেশা লাগামছাড়া হয়ে গেছে। তামাকের নেশার কারণে মুখ ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে উত্তর-পূর্বে। দেশজুড়েই ফুসফুস ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রীতিমতো চিন্তার কারণ। সেই সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্যনালীর ক্যানসার, ত্বক ও স্তন ক্যানসারে আক্রান্তদের সংখ্যা।

দেশজুড়ে বিভিন্ন ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউট, হাসপাতাল-নার্সিংহোম এবং ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের উপরে সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট সামনে এনেছে আইসিএমআর ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড রিসার্চ (NCDIR)। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফুসফুস, স্তন, জরায়ু, ত্বক এবং মুখ ও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে ভারতে। সমীক্ষায় দাবি, এই বছরের শেষেই পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪২১ জন মারণ রোগের কবলে পড়তে পারেন। তার মধ্যে তামাকের নেশার কারণে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০২৫ সালে গিয়ে এই সংখ্যাই দাঁড়াবে ৭ লাখ ৬৩ হাজারের কাছাকাছি। মহিলাদের মধ্যে জরায়ু ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। এ বছরের শেষে গিয়ে প্রায় ৭ লাখ ১২ হাজার ৭৫৮ জন মারণ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ২০২৫ সালে আট লাখের বেশি মহিলার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব জুড়ে স্তন ক্যানসারের  মাত্রা অনেক বেড়েছে। অনেক মহিলাই লজ্জা ও সংকোচের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চান না। পরিসংখ্যান বলছে, ৬৪ শতাংশ মহিলা স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা সম্পর্কে অবগতই নন। ৬৬ শতাংশ জানেনই না চিকিৎসার ব্যয়ভার কত হতে পারে! এ দিকে ৪৯ শতাংশ মহিলা লজ্জা ও সংকোচের কারণে রোগের কথা সামনেই আনেন না। পিরিয়ডের সমস্যা, বেশি বয়সে মেনোপজ, ওবেসিটি, বেশি বয়সে সন্তানধারণ, সন্তানকে ব্রেস্ট ফিড না করালেও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বংশে এর আগে কোনও মহিলার ব্রেস্ট বা ওভারি ক্যানসার থাকলে ঝুঁকি বেশি। বিএআরসিএ ১, ও বিএআরসি ২, জিন থাকলে ব্রেস্ট ক্যানসারের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

তামাকের নেশার কারণে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সমীক্ষায় এমনটাই দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ভারতে যত মানুষের ক্যানসার ধরা পড়ে, তার ৬.৯ শতাংশই ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরুর মতো শহরে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দেশের অন্য অংশের তুলনায় বেশি বলেও জানা গিয়েছে। ৪০ বছরের উপরে বয়স যাঁদের ধূমপানের অভ্যাস আছে বা প্যাসিভ স্মোকার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ অর্থাৎ সিওপিডি-র রোগী সকলেই ‘হাই রিস্ক’ গ্রুপে রয়েছেন। সিগারেট  ও তামাক সেবনকারীদের নিয়ে এক ন্যাশনাল সার্ভেতে জানা গেছে, কলকাতায় ধুমপায়ীর সংখ্যা সবথেকে বেশি। কলকাতায় ৪৯% এবং দেশের বাকি অংশে ৪৩%। আর এই ৪৯ শতাংশের মধ্যে অনেকটাই জুড়ে রয়েছেন মহিলারা। এনসিবিআই-পাবমেডের একটি জার্নালে বিজ্ঞানীরা লিখেছিলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ভারতে ধূমপায়ীদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছিল। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, প্রতি বছর ভারতেই ধূমপান ও তামাকের নেশার কারণে ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত হয় প্রায় এক কোটির বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

গবেষকরা বলছেন, রক্ত, লিভার, কিডনির ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়েছে। কমবয়সীদের মধ্যে লিউকোমিয়া এবং ব্রেন টিউমারের প্রবণতা বাড়ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More