মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

খুনের পর ‘দৃশ্যম’ ছবির ধাঁচে দেহ লোপাটের চেষ্টা, হলো না শেষরক্ষা, গ্রেফতার বিজেপি নেতা ও তিন ছেলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দৃশ্যম ছবির বিজয় সালগাওকার ( অজয় দেবগণ ) -কে মনে পড়ে? স্ত্রীর হাতে খুন হওয়া আইজি মীরা দেশমুখ ( তাব্বু ) -এর ছেলের দেহ কীভাবে লুকিয়েছিলেন তিনি? পুলিশের হাতে ধরাও পড়েননি। এই ছবি দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে এক যুবতীকে খুন করে তাঁর দেহ লোপাটের চেষ্টা করেন পাঁচ জন। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। পুলিশের হাতে ধরা পড়তেই হলো।

ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের। ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ জনের মধ্যে এক বিজেপি নেতা ও তাঁর তিন ছেলেও রয়েছেন। ইন্দোরের ডিআইজি হরিনারায়ণচারী মিশ্র জানিয়েছেন, বিজেপি নেতা জগদীশ করোটিয়া ওরফে কাল্লু পেহলওয়ান ( ৬৫ ), তাঁর তিন ছেলে অজয় ( ৩৬ ), বিজয় ( ৩৮ ) ও বিনয় ( ৩১ ) এবং এক সহযোগী নীলেশ কাশ্যপ ( ২৮ )-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২২ বছরের এক যুবতী টুইঙ্কল ডাগরেকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে এই পাঁচজনের উপর।

আরও পড়ুন ‘বিজেপিকে ভোট দিন’, অনুরোধ হবু দম্পতির, বিয়ের কার্ডেই হাজির ‘রাফায়েল চুক্তি’

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের। অবিবাহিত টুইঙ্কলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল জগদীশ করোটিয়ার। এই সম্পর্কের ব্যাপারেই জগদীশকে চাপ দিচ্ছিলেন টুইঙ্কল। আর তাই তাঁকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন জগদীশ। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করে তিন ছেলে ও নীলেশ। ১৬ অক্টোবর তাঁরা টুইঙ্কলকে খুন করে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেন বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই খুনের ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে তাঁদের ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করেন জগদীশ ও তাঁর ছেলেরা। ঠিক ‘দৃশ্যম’ ছবির মতো একটা কুকুরকে মেরে তার দেহ মাটি চাপা দিয়ে তাঁরা প্রচার করে দেন সেখানে কিছু চাপা দেওয়া হয়েছে। মাটি খুঁড়ে পুলিশ কুকুরের দেহ পায়।

কিন্তু এতে উলটো তাঁদের উপর সন্দেহ আরও তীব্র হয়ে বলে জানিয়েছেন আইজি হরিনারায়ণচারী মিশ্র। পাঁচজনকে গুজরাটের এক ল্যাবরেটরিতে ব্রেইন ইলেকট্রিক্যাল অসিলেশন সিগনেচার ( বায়োস ) পরীক্ষার জন্য পাঠানো যায়। এই পরীক্ষায় বোঝা যায়, কেউ মিথ্যা কথা বলছেন কিনা। এই পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তাঁরা কিছু লুকাচ্ছেন। তারপর দীর্ঘ জেরা করতে আসল সত্যি বেরিয়ে আসে।

জগদীশ ও তাঁর ছেলেদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আসলে যেখানে টুইঙ্কলকে পুড়িয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে যায় পুলিশ। সেখান থেকে টুইঙ্কলের গয়না, ঘড়ি উদ্ধার হয়। খুনের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। আপাতত তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

এই ঘটনার কথা সামনে আসার পর ইন্দোরের এক পুলিশ কর্তা বলেন, ‘ছবি দেখে ভালোই নকল করার চেষ্টা করেছিলেন জগদীশ ও তাঁর ছেলেরা। কিন্তু সিনেমা আর বাস্তব যে আলাদা, সেটা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন তাঁরা।’

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

 

Shares

Comments are closed.