শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

‘বাবরি ভেঙে বেশ করেছি,’ বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সাধ্বীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত  ও বেফাঁস মন্তব্যের জেরে ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রের এই বিজেপি প্রার্থীকে নোটিস ধরিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে শুধু নোটিশেই যে চিড়ে ভিজবে না সেটা বোধহয় আন্দাজ করেননি সাধ্বী। সোমবার নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানালেন, এমন অসংবেদনশীল মন্তব্য সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কানি দেয়। সুতরাং তার জন্য আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে সাধ্বীকে। সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাধ্বী প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুরের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে যাচ্ছেন মালেগাঁও বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুর।  গত চার দিনের মধ্যে এই নিয়ে পর পর দু’টি বোমা ফাটালেন তিনি। প্রথমেই ২৬/১১ মুম্বই হামলায় শহিদ, মুম্বইয়ের অপরাধ দমন শাখার প্রধান হেমন্ত কারকারেকে নিয়ে অসংবেদনশীল মন্তব্য করেন। তাঁর শাপেই জঙ্গিদের হাতে কারকারের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন। সেই নিয়ে বিতর্ক বাঁধলে, চাপে পড়ে যদিও ক্ষমা চেয়ে নেন। কিন্তু তার পরই ফের বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। এ বার সাধ্বী বলেন, ‘‘বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার জন্য আমি গর্ব বোধ করি।’’

‘অশোক চক্র’ বিজয়ী প্রয়াত পুলি‌শ অফিসারের বিরুদ্ধে এমন কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য সাধ্বীকে প্রথমবার নোটিস ধরান মধ্যপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ফের ভোটের আচরণবিধি ভেঙে বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় বার ভোপালের বিজেপি প্রার্থী সাধ্বীকে সতর্ক করে নির্বাচন কমিশন।

একটি হিন্দি নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাধ্বী বলেন, ‘‘৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার কাজে আরও অনেকের সঙ্গে আমিও সামিল হয়েছিলাম। তা জন্য আমি গর্ব বোধ করি। ” সেই সঙ্গেই তাঁর মন্তব্য, “বাবরি মসজিদ ভেঙে বেশ করেছি। রাম মন্দির গড়ার কাজে সাহায্য করতে আমি আবার অযোধ্যায় যাবো। আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না।”

সাধ্বীর প্রার্থী-পদ খারিজের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মালেগাঁও বিস্ফোরণে নিহত এক তরুণের বাবা। একই দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনেও আবেদন জমা পড়েছে। হেমন্তের সম্পর্কে তাঁর এই উক্তিতে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধ্বীর মনোনয়ন বাতিল করার জন্য আওয়াজ তুলেছেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। সমালোচনার মুখে পড়ে সাধ্বীকে নোটিস পাঠালেও, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেনি নির্বাচন কমিশন। তাতেই ফের একবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন মায়াবতী-সহ বিরোধীরা।

Comments are closed.