মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

মুলায়ম-কাঁসিরাম থেকে মায়া-অখিলেশ, সপা-বসপা জোটে বারবার জুজু দেখেছে বিজেপি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯৩ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের কথা মনে আছে! বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তখন টগবগ করে ফুটছে গেরুয়া শিবির। রাম মন্দির আন্দোলন নিয়ে সেই তপ্ত পরিবেশেও বিজেপি-র রথের চাকা রুখে মাটিতে বসিয়ে দিয়েছিলেন অভিভক্ত উত্তরপ্রদেশের দুই দুঁদে রাজনীতিক। হিন্দিবলয়ের সব থেকে বড় রাজ্যে সে বার স্লোগান উঠেছিল ‘মিলে মুলায়ম কাঁসিরাম, হাওয়া মে উড় গায়ে জয় শ্রী রাম।” এবং ভোট ফলাফল জানিয়ে দিয়েছিল, মসজিদ ভেঙেও লখনউ-র মসনদ বরাতে জুটল না বিজেপি-র। পরিবর্তে সপা-বসপা জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মুলায়ম সিং।

তার পর আড়াই দশক হয়ে গিয়েছে। জাত পাতের সমীকরণ দীর্ণ উত্তরপ্রদেশে বিজেপি দিব্য ঠাওর করতে পারছে সপা-বসপার রসয়ানে বিপদ রয়েছে। এবং তা ছোট খাটো নয়, ঘোর বিপদ।

কেন?

এই রসায়নের শিকড় খুঁজতে গেলে নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ফিরে তাকাতে হয়। জনতা দল ভেঙে যাওয়ার পর হিন্দিবলয়ে সমাজবাদী আদর্শে রাজনীতিতে নেমে পড়া নেতারা তখন প্রায় অথৈ জলে। কেন্দ্রে তখন নরসিংহ রাও সংখ্যালঘু সরকার গঠন করেছেন। উত্তরপ্রদেশে স্বস্তিজনক ভাবে ক্ষমতায় বসেছেন বিজেপি-র ওবিসি নেতা কল্যাণ সিং। এই সময় জনতা দল ভেঙে বেরিয়ে আসা কিছু নেতা ভেবেছিলেন বিজেপি-কে ঠেকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাবেন। কিন্তু কুস্তিগীর নেতাজি তথা মুলায়ম সিং-এর মাথায় ছিল অন্য ভাবনা। উত্তরপ্রদেশে একটি উপ নির্বাচনে সেই প্রথম কাঁসিরাম তথা বহুজন সমাজ পার্টির নেতার সঙ্গে আঁতাত করেন মুলায়ম। তাতেই যাত্রাভঙ্গ হয় বিজেপি-র। পরবর্তী কালে সেই জোটকেই ক্রমশ মজবুত করে ৯৩ সালের ভোটে উত্তরপ্রদেশের তখত থেকে কল্যাণ সিংকে গদিচ্যুত করেন মুলায়ম।

জাতপাতের নিরিখে সপা-বসপার এই জোট দলিত, মুসলিম এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি তথা ওবিসি-র জোট বলেই হিন্দিবলয়ে পরিচিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পঁচিশ বছর পরেও সেই জোটের যে ধার ও ভার রয়েছে তা গত বছর উত্তরপ্রদেশের দুটি লোকসভার উপ নির্বাচনেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কাইরানা ও গোরক্ষপুর লোকসভায় বিজেপি-কে ডাহা হারিয়েছে বুয়া-বাবুয়ার জোট। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেই সেই হার ঠেকাতে পারেননি যোগী আদিত্যনাথ। এমনকী তাঁর পাঁচ বারের জেতা লোকসভা আসন গোরক্ষপুরেও তাঁর মুখরক্ষা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ অবশ্য দলের মনোবল শক্ত রাখতে বলছেন, মায়া-অখিলেশের জোট তাঁদের কোনও ক্ষতিই করতে পারবে না। উল্টে আগের বারের থেকেও বেশি আসনে তাঁরা জিতবেন। সেই সঙ্গে গুজরাতের কট্টর হিন্দুবাদী নেতা গোর্ধন ঝাড়াপিয়াকে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। যার সহজ অর্থ উগ্র মেরুকরণের রাজনীতিতেই শাণ দেবে বিজেপি।

কিন্তু জোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জয়ের ব্যাপারে মায়ার আত্মবিশ্বাস যেন এ দিন ঠিকরে বেরিয়েছে। তিনি বলেন, এই যে জোট ঘোষণা করলাম, জেনে রাখুন- গুরু চ্যালার ঘুম উড়ে গিয়েছে। ওঁদের আর ঘুমোতে দেব না।

Comments are closed.