সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

পার্লে কোম্পানিতে ছাঁটাই হতে পারে ১০ হাজার কর্মী, গ্রামীণ বাজারে নাকি কমেছে বিস্কুটের চাহিদা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাড়ির বাজারে ধস। ভোগ্যপণ্যের বিক্রিবাটায় ধাক্কা। মন্দার মেঘ এ বার পার্লে জি বিস্কুটেও। ৯০ বছরের পুরনো এই বিস্কুট নির্মাতা সংস্থা এ বার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে। সংস্থার অন্দরের খবর, প্রায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে পারে পার্লে কোম্পানি।

১৯২৯ সাল থেকে পথ চলা শুরু এই বিস্কুট-কোম্পানির। জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে ভারতের বাজারে জায়গা করে নেয় খুব তাড়াতাড়ি। বর্তমানে কর্মী সংখ্যা স্থানীয় ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ। সংস্থার ক্যাটেগরি হেড মায়াঙ্ক শাহ জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরেই সংস্থার লাভের অঙ্ক প্রায় শূন্য। সার্কুলেশন কমেছে হু হু করে। যার ফলেই এই কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে সংস্থা। প্রথম দফায় ৮-১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। সূত্রের খবর, অস্থায়ী ভিত্তিতে যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের ওপরেই ছাঁটাইয়ের কোপ পড়তে পারে বেশি।

শাহের কথায়, ‘‘২০১৭ সালে জিএসটি লাগু হওয়ার পর থেকেই আর্থিক মন্দার মুখে পড়ে বিস্কুটের এই জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। লোকসানের অঙ্ক বেড়েছে চড়চড়িয়ে। বাধ্য হয়েই এক প্যাকেট বিস্কুটের দাম কম করে পাঁচ টাকা রাখতে হয়েছে। ফলে লাভের খাতায় জমা হয়েছে সামান্যই। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে এই বেহাল অবস্থা কাটবে না।’’

পার্লে জি-র আগে নাম ছিল পার্লে গ্লুকো। হেডকোয়ার্টার ছিল মুম্বইতে। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে নাম বদলে রাখা হয় পার্লে জি। ২০০৩ সালের মধ্যে শুধু দেশে নয় বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে নাম করে পার্লে জি। পার্লে সংস্থার তরফে বলা হচ্ছে, গ্রামীণ বাজারে বিস্কুটের চাহিদা হঠাৎ করেই কমে গেছে। হতে পারে, দাম বাড়ার জন্যই এটা হয়েছে। বাজারও মন্দা।

শুধু বিস্কুট নয়, গাড়ি শিল্পেও ইতিমধ্যেও মন্দার ধাক্কা লেগেছে। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের সাত শতাংশ গাড়ি শিল্প থেকে আসে। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি টানা ন’মাস ধরে কমেছে। গত কয়েকমাসে কয়েকটি কোম্পানির বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে আগামীদিনে আরও অনেকে ছাঁটাই হতে পারে। এর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে। সারা দেশে এখন সাড়ে তিন কোটি মানুষ গাড়ি শিল্পে যুক্ত আছেন।

Comments are closed.